২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | সোমবারবাংলা: ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
জীবনযাপন

কম তেলেই হবে সুস্বাদু রান্না, জেনে নিন ৭ সহজ কৌশল

cooking-1-20201219133658

রান্নার স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়াতে তেলের ব্যবহার আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসেরই অংশ। তবে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল ব্যবহার করলে খাবারের ক্যালরি যেমন বেড়ে যায়, তেমনি দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত চর্বি গ্রহণের অভ্যাসও তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান বা তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস গড়ে তুলতে চান, তাদের রান্নায় তেলের পরিমাণের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

তবে তেল একেবারে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং রান্নার ধরন ও কিছু ছোট অভ্যাসে পরিবর্তন আনলেই অনেকটা কম তেল ব্যবহার করা সম্ভব। জেনে নিন এমন সাতটি সহজ কৌশল।

১. নন-স্টিক পাত্র ব্যবহার করুন

নন-স্টিক কড়াই বা পাত্রে রান্না করলে খাবার সহজে তলায় লেগে যায় না। ফলে রান্নার সময় অতিরিক্ত তেল দেওয়ার প্রয়োজনও কমে। বিশেষ করে সবজি ভাজি, ডিম, মাছ বা হালকা নেড়ে রান্না করার ক্ষেত্রে এ ধরনের পাত্র কাজে লাগতে পারে। তবে পাত্রের আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা পরিবর্তন করা উচিত।

২. ভাজার বদলে বেছে নিন অন্য পদ্ধতি

ডুবো তেলে ভাজার বদলে গ্রিল, বেক বা স্টিম করে খাবার তৈরি করা যায়। এতে রান্নায় ব্যবহৃত তেলের পরিমাণ অনেকটাই কমানো সম্ভব। আলু, সবজি, মাছ বা মাংসের মতো খাবারও ভিন্ন পদ্ধতিতে রান্না করলে স্বাদ বজায় রেখে তুলনামূলক কম তেল ব্যবহার করা যায়।

Advertisements

৩. ‘হাতে ঢালা’ নয়, মেপে তেল দিন

কড়াইয়ে সরাসরি বোতল থেকে তেল ঢালার অভ্যাস থাকলে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল চলে যেতে পারে। তাই চামচ দিয়ে মেপে তেল ব্যবহার করার অভ্যাস করুন। চাইলে দিনের জন্য প্রয়োজনীয় তেল আলাদা করে রেখে দিতে পারেন। এতে রান্নায় মোট কতটা তেল ব্যবহার হচ্ছে, তার ওপর নজর রাখা সহজ হবে।

৪. মসলা কষানোর কৌশল বদলান

অনেকেই মসলা কষানোর সময় বেশি তেল ব্যবহার করেন। অথচ মসলা সামান্য পানি দিয়ে কষিয়ে পরে অল্প তেল যোগ করলেও রান্নার স্বাদ বজায় রাখা সম্ভব। এতে একই সঙ্গে মসলা ভালোভাবে রান্না হয় এবং অতিরিক্ত তেল ব্যবহারের প্রবণতাও কমে।

৫. স্প্রে বোতল ব্যবহার করতে পারেন

তেল ব্যবহারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে স্প্রে বোতল বেশ কার্যকর হতে পারে। কড়াই বা খাবারের ওপর সরাসরি বেশি তেল ঢালার বদলে অল্প করে স্প্রে করলে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল দেওয়া সহজ হয়। বিশেষ করে অল্প তেলে রান্না করার অভ্যাস গড়ে তুলতে এটি সহায়ক হতে পারে।

৬. মসলা অতিরিক্ত ভাজবেন না

দানাদার মসলা বা অন্যান্য মসলা দীর্ঘ সময় বেশি তেলে ভাজার প্রয়োজন নেই। এতে রান্নায় তেলের পরিমাণ বাড়তে থাকে। প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প তেলে মসলা ভেজে বা কষিয়ে নিলেই চলে। এতে সময় ও তেল—দুটিই বাঁচবে।

৭. সবজি ও ডালে পরিমাণ ঠিক রাখুন

সবজি বা ডাল রান্নার সময় অনেক বেশি তেল দেওয়ার প্রয়োজন নেই। রান্নার পরিমাণ অনুযায়ী এক থেকে দুই চা-চামচ তেল দিয়েও অনেক ক্ষেত্রে ভালোভাবে রান্না করা সম্ভব। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল দিলে খাবার যে আরও সুস্বাদু হবে, এমনটা নয়। বরং সঠিক পরিমাণে মসলা ও অন্যান্য উপকরণের ব্যবহারেই খাবারে স্বাদ আনা সম্ভব।

রান্নায় তেল কমানোর অর্থ স্বাদহীন খাবার খাওয়া নয়। বরং তেলের পরিমাণ সম্পর্কে সচেতন হয়ে রান্নার কৌশলে সামান্য পরিবর্তন আনাই মূল কথা। প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসই ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে।

Advertisements