নেপালে পাহাড়ধসে আটকা পড়েছে বাংলাদেশের পাবজি টিম, উদ্ধারের আকুতি

নেপালের পাহাড়ি পথে ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়েছে বাংলাদেশের জনপ্রিয় পাবজি দল ‘এওয়ান ই-স্পোর্টস’। ভারী বৃষ্টি ও একের পর এক পাহাড়ধসে দেশটির মানাং এলাকায় আটকা পড়েছেন দলের সদস্যরা। দুর্ঘটনার পর প্রাণ বাঁচাতে রাতের অন্ধকারে প্রায় তিন কিলোমিটার পাহাড়ি পথ পায়ে হেঁটে একটি গ্রামে আশ্রয় নিয়েছেন তারা। এখন তাদের একমাত্র অপেক্ষা—নিরাপদে উদ্ধার হওয়া।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নিজেদের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাছে জরুরি সহায়তার আবেদন জানিয়েছে এওয়ান ই-স্পোর্টস। দলটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নেপালে আয়োজিত পিএমজিও টুর্নামেন্ট শেষ করে ফেরার পথেই বিপদের মুখে পড়েন তারা। মানাং থেকে ফেরার সময় হঠাৎ পাহাড়ধসের কবলে পড়ে তাদের গাড়ি। এতে গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ হয়ে উঠলে প্রাণ বাঁচাতে গাড়ি ছেড়ে পাহাড়ি পথে হেঁটে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করতে হয় দলের সদস্যদের।
প্রায় তিন কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে শেষ পর্যন্ত একটি গ্রামে আশ্রয় নেন তারা। কিন্তু সেখানেও স্বস্তির সুযোগ ছিল না। বিদ্যুৎ নেই, নেই ওয়াইফাই কিংবা মোবাইল নেটওয়ার্ক। ফলে বাইরের বিশ্বের সঙ্গে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন দলের সদস্যরা।
এর মধ্যে সামনে ও পেছনের সেতু ভেঙে যাওয়ায় তাদের অবস্থান আরও সংকটপূর্ণ হয়ে ওঠে। যাতায়াতের পথ বন্ধ থাকায় একপ্রকার অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের। দলটি জানায়, রোববার সকালে মোবাইল নেটওয়ার্ক ফিরে পাওয়ার পর বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে ই-মেইল ও ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তাদের দাবি, এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সাড়া বা উদ্ধার সহায়তা তারা পাননি।
এ অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের পরিস্থিতি তুলে ধরে দ্রুত উদ্ধারের আবেদন জানিয়েছে দলটি। পোস্টে তারা আরও দাবি করেছে, তাদের সঙ্গে আটকে পড়া যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারতসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা নিজ নিজ দূতাবাসের মাধ্যমে যোগাযোগ ও উদ্ধার সহায়তা পেয়েছেন। অথচ বাংলাদেশি দলটির সদস্যরা এখনো অপেক্ষায় রয়েছেন।
দলের পোস্টে ফুটে উঠেছে আতঙ্ক, অসহায়ত্ব ও স্বদেশের সহায়তার প্রত্যাশা। সেখানে তারা লিখেছে, তারা কোনো বিশেষ সুবিধা চায় না; শুধু বিপদের মুহূর্তে দেশের প্রতিনিধিত্বকারী মিশনকে পাশে পাওয়ার প্রত্যাশা করে।
এওয়ান ই-স্পোর্টসের ভাষায়, বিদেশের মাটিতে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক জীবন-মৃত্যুর অনিশ্চয়তায় পড়লে তার পাশে রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিত্ব থাকবে—এই আশ্বাসটুকুই তারা চান। পাহাড়ধসে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া দলটির এখন একটাই আকুতি—দ্রুত তাদের নিরাপদে উদ্ধার করা হোক।



