৫ নভেম্বর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবারবাংলা: ২০ কার্তিক ১৪৩৩
ভ্রমণ

সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের প্রস্তুতি: যাওয়ার আগে জেনে নিন টিকিট, ভাড়া ও প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন

st-martin-ship-df42dc-480×270

নীল জলরাশি, প্রবাল পাথর আর সারি সারি নারকেলগাছের সৌন্দর্যে ঘেরা সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ভ্রমণপ্রেমীদের অন্যতম আকর্ষণ। পর্যটকদের জন্য আবারও খুলে দেওয়া হয়েছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপটি। শুরু হয়েছে জাহাজ চলাচলও। ফলে দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি রাত কাটানোর সুযোগও পাচ্ছেন ভ্রমণপিপাসুরা। তবে আনন্দদায়ক ভ্রমণের জন্য যাত্রার আগে টিকিট, আবাসন ও দ্বীপের পরিবেশ সংরক্ষণসংক্রান্ত নিয়মগুলো জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

যাত্রার পরিকল্পনা করুন আগেভাগেই

সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলে প্রথমেই জাহাজের টিকিট নিশ্চিত করা ভালো। ভ্রমণের মৌসুমে পর্যটকদের চাপ বাড়তে পারে। তাই শেষ মুহূর্তের ভোগান্তি এড়াতে আগেই টিকিট বুকিং করে রাখুন। সংশ্লিষ্ট জাহাজের ওয়েবসাইট, পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকসেবা নম্বর কিংবা অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করা যাবে।

কোন জাহাজে যেতে পারবেন?

কক্সবাজার থেকে সেন্ট মার্টিন নৌপথে চলতি মৌসুমে প্রায় ১০টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। পর্যটকদের জন্য উল্লেখযোগ্য কয়েকটি জাহাজ হলো এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, বে-ক্রুজার ১, এমভি বারো আউলিয়া এবং কেয়ারি সিন্দাবাদ। ভ্রমণের তারিখ নির্ধারণের আগে জাহাজ চলাচলের সময়সূচি ও অনুমোদনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যাচাই করে নেওয়া উচিত।

আসনভেদে জাহাজের ভাড়া

Advertisements

জাহাজের টিকিটের মূল্য নির্ভর করবে আসনের ধরন ও সুযোগ-সুবিধার ওপর। সাধারণ আসন থেকে শুরু করে বিজনেস চেয়ার, মোজার্ট চেয়ার, বেড ও কেবিন—বিভিন্ন শ্রেণির আসন বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। যাওয়া-আসার টিকিটের জন্য আনুমানিক ৩ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ১৫-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। টিকিট কেনার আগে নির্দিষ্ট আসনের ভাড়া, সুবিধা ও প্রাপ্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিন।

ট্রাভেল পাস নিয়ে দুশ্চিন্তা নয়

সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের জন্য পর্যটকদের ট্রাভেল পাস প্রয়োজন। তবে এ নিয়ে আলাদা করে নিবন্ধনের ঝামেলায় পড়তে হবে না। জাহাজের টিকিট বুকিং সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানই পর্যটকের নিবন্ধন ও ট্রাভেল পাসসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করবে।

থাকার জায়গা আগে থেকেই ঠিক করুন

সেন্ট মার্টিনে পর্যটকদের থাকার জন্য রয়েছে ২৩০টির বেশি হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ। তবে দ্বীপে পৌঁছে আবাসন খোঁজার পরিবর্তে আগেই পছন্দের জায়গা বুকিং করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। এতে দ্বীপে পৌঁছানোর পর সময় বাঁচবে এবং নিশ্চিন্তে বিশ্রাম নেওয়া যাবে।

আবাসনের মান ও সুযোগ-সুবিধা অনুযায়ী ভাড়ার পার্থক্য রয়েছে। ভালো মানের হোটেল ও রিসোর্টে এক রাতের জন্য গুনতে হতে পারে ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা। মাঝারি মানের আবাসনে ৪ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে থাকার ব্যবস্থা পাওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে তুলনামূলক কম খরচে থাকতে চাইলে ১ হাজার ৫০০ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকার মধ্যে ইকোনমি হোটেল ও রিসোর্ট বেছে নেওয়া সম্ভব। বুকিংয়ের আগে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে রুমের ছবি, সুযোগ-সুবিধা, রিভিউ এবং বিশেষ ছাড়ের তথ্য যাচাই করে নিন।

পরিবেশ রক্ষায় পর্যটকদের দায়িত্ব

সেন্ট মার্টিনের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি দ্বীপটির জীববৈচিত্র্য রক্ষার দায়িত্বও পর্যটকদের। ভ্রমণের সময় প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা জরুরি।

দ্বীপের পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার পরিহার করুন। সৈকতে উচ্চ শব্দে গান বাজানো, রাতে দীর্ঘসময় আলো জ্বালিয়ে রাখা এবং বারবিকিউ পার্টি আয়োজন থেকে বিরত থাকুন। সৈকতে মোটরচালিত যানবাহন ব্যবহার না করে প্রয়োজনে বাইসাইকেল বেছে নিতে পারেন।

ভ্রমণ হোক আনন্দের, দায়িত্বশীলতারও

সেন্ট মার্টিন শুধু ঘুরে বেড়ানোর জায়গা নয়, এটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাকৃতিক সম্পদ। তাই ভ্রমণের আনন্দ যেন দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির কারণ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। আগাম পরিকল্পনা, সঠিক বুকিং এবং পরিবেশবান্ধব আচরণ—এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত করতে পারলেই সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ হয়ে উঠতে পারে আরও স্বস্তিদায়ক ও স্মরণীয়।

Advertisements