২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবারবাংলা: ৯ আশ্বিন ১৪৩৩
বিবিধ

মীনা দিবস আজ, কয়েক দশক পরও অমলিন সেই চরিত্র

maxresdefault

ছোট্ট মেয়ে মীনা। সঙ্গে তার ছোট ভাই রাজু আর পোষা টিয়াপাখি মিঠু। কখনো স্কুলে যাওয়ার অধিকার নিয়ে, কখনো বৈষম্যের বিরুদ্ধে—মীনার গল্পে উঠে এসেছে শিশুদের জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দক্ষিণ এশিয়ার অসংখ্য শিশুর কাছে তাই মীনা শুধু একটি অ্যানিমেটেড চরিত্র নয়, বরং শিক্ষা, অধিকার ও সমতার বার্তার পরিচিত এক মুখ।

প্রতিবছর ২৪ সেপ্টেম্বর পালিত হয় মীনা দিবস। মেয়েশিশুর শিক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করা, শিশুদের প্রতি বৈষম্য দূর করা এবং তাদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা তৈরিই এই দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য।

মীনা চরিত্রের জন্মের পেছনেও রয়েছে মেয়েশিশুর অধিকার নিয়ে সচেতনতা তৈরির একটি বড় উদ্যোগ। ১৯৯০ থেকে ২০০০ সালকে ‘মেয়েশিশুর দশক’ ঘোষণা করেছিল দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্ক। ওই সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার মেয়েশিশুদের শিক্ষা ও অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ একটি অ্যানিমেটেড সিরিজ তৈরির উদ্যোগ নেয়। সেই উদ্যোগ থেকেই জন্ম নেয় মীনা।

মীনার বয়স নয় বছর। গল্পে তাকে দেখা যায় নানা সামাজিক বাধা, কুসংস্কার ও বৈষম্যের মুখোমুখি হতে। তবে প্রতিবারই নিজের বুদ্ধি, সাহস ও যুক্তি দিয়ে সে সমস্যার মোকাবিলা করে। মেয়েদের স্কুলে যাওয়া, শিশুর অধিকার, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, সমতা—এমন নানা বিষয় সহজ গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে মীনার বিভিন্ন পর্বে।

বাংলাদেশে মীনা কার্টুনের যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে। ‘মুরগিগুলো গুনে রাখো’ নামে প্রচারিত প্রথম পর্বে স্কুলে যাওয়ার জন্য মীনার সংগ্রামের গল্প তুলে ধরা হয়। এরপর ধীরে ধীরে টেলিভিশনের পর্দা ছাড়িয়ে কমিক বই, রেডিও অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রমেও জায়গা করে নেয় মীনা। বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে মীনা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশেও। স্থানীয় ভাষায় প্রচারিত হয় তার গল্প। শিশুদের বিনোদনের সঙ্গে সামাজিক সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার একটি সহজ মাধ্যম হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এই চরিত্র।

১৯৯৮ সাল থেকে প্রতিবছর ২৪ সেপ্টেম্বর মীনা দিবস পালিত হয়ে আসছে। এদিন মেয়েশিশুর বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করা, শিক্ষার সুযোগ থেকে ঝরে পড়া রোধ এবং শিশুদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়।

Advertisements

সময়ের সঙ্গে মীনার গল্পের বিষয়বস্তুতে পরিবর্তন এসেছে। বদলেছে শিশুদের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জও। তবু শিক্ষা, সমতা ও অধিকার নিয়ে মীনার মূল বার্তাটি আজও একই রয়ে গেছে। কয়েক দশক পেরিয়েও তাই দক্ষিণ এশিয়ার শিশুদের কাছে মীনা রয়ে গেছে পরিচিত, প্রিয় এবং প্রাসঙ্গিক এক চরিত্র।

Advertisements