যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে ১১ নতুন উড়োজাহাজ কিনছে বিমান

আন্তর্জাতিক রুটে সক্ষমতা বাড়ানো ও বহর আধুনিকায়নের পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ১১টি নতুন উড়োজাহাজ কিনছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এ নিয়ে প্রতিষ্ঠান দুটির মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়েছে।
বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে চুক্তিটি সই হয়। বিমানের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান রুমি এ. হোসেন এবং বোয়িংয়ের কমার্শিয়াল সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড ম্যাকমুলেন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
বোয়িংয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন ক্রয়াদেশে রয়েছে পাঁচটি ৭৮৭-১০ এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ। নতুন উড়োজাহাজগুলো যুক্ত হলে বিমানের বহরের সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী পরিবহনের সুযোগও সম্প্রসারিত হবে। চুক্তিকে বিমানের বহর আধুনিকায়ন ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান রুমি এ. হোসেন। বর্তমানে বিমান আন্তর্জাতিক বিভিন্ন রুটে ৭৮৭, ৭৭৭ ও ৭৩৭ নেক্সট-জেনারেশন উড়োজাহাজ পরিচালনা করছে। এসব উড়োজাহাজের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ইউরোপের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরের সঙ্গে বাংলাদেশের আকাশপথে যোগাযোগ রয়েছে।
বোয়িংয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড ম্যাকমুলেন বলেন, নতুন এই ক্রয়াদেশ বিমানের বহর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক ও উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লান্ডাউসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাতের সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করেই নতুন উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের এভিয়েশন খাত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে নতুন নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সেই চাহিদা পূরণে নতুন উড়োজাহাজ প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন মাহদী আমিন। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতে ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের সঙ্গেও আলোচনা হতে পারে বলে জানান তিনি।
তার ভাষ্য, উড়োজাহাজ কেনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের চাহিদা ও প্রয়োজনকেই গুরুত্ব দেওয়া হবে। নতুন রুট, বাড়তে থাকা যাত্রী চাহিদা এবং বিমান পরিবহন খাতের সম্প্রসারণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই বহর বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।


