তামিল রীতিতে সামান্থার বিশেষ ‘বেবি শাওয়ার’

দক্ষিণ ভারতীয় সংস্কৃতির নানা আচার-অনুষ্ঠানে আজও জড়িয়ে আছে প্রাচীন বিশ্বাস, পারিবারিক বন্ধন ও আশীর্বাদের আবহ। গর্ভাবস্থায় হবু মা ও অনাগত সন্তানের মঙ্গল কামনায় তামিল সম্প্রদায়ের এমনই একটি ঐতিহ্যবাহী আয়োজন ‘উদকাশান্তি স্নানম’। এবার এই রীতিতেই ঘরোয়া আয়োজনে অংশ নিলেন দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভু।
১৫ সেপ্টেম্বর আয়োজিত অনুষ্ঠানে পবিত্র জল ও মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে সামান্থা ও তাঁর অনাগত সন্তানের জীবনে শান্তি, সুস্থতা ও মঙ্গল কামনা করা হয়। ‘উদকাশান্তি’ শব্দের অর্থও পবিত্র জলের মাধ্যমে শান্তি বা মঙ্গল কামনা।

তামিল সংস্কৃতিতে গর্ভধারণ ও সন্তান আগমনের সঙ্গে যুক্ত একাধিক আচার রয়েছে। এর মধ্যে ‘ভালাইকাপ্পু’ বেশ পরিচিত। এই আয়োজনে হবু মায়ের হাতে কাচের চুড়ি পরানো, ফুল দিয়ে সাজানো এবং মা ও অনাগত সন্তানের সুস্থতার জন্য আশীর্বাদ করার রীতি রয়েছে। সামান্থার অনুষ্ঠানেও এই রীতি পালন করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে সামান্থাকে গাঢ় হলুদ রঙের কামিজ-চুরিদার পরা অবস্থায় দেখা যায়। মাথায় ফুল, চারপাশে ফুল ও প্রদীপের সাজ—সব মিলিয়ে ছিল ঐতিহ্যবাহী আবহ। খোলা জায়গায় বসে তাঁকে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার পালন করতেও দেখা গেছে।

অনুষ্ঠানে পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের পাশাপাশি সামান্থার বান্ধবী ও ফ্যাশন ডিজাইনার শিল্পা রেড্ডিও উপস্থিত ছিলেন। তিনিই সরাসরি উপস্থিত থেকে আয়োজনটির বিভিন্ন বিষয় দেখভাল করেছেন। নতুন জীবনের আগমনকে ঘিরে হবু মাকে শুভকামনা ও আশীর্বাদ জানাতেই এই আয়োজন করা হয়।
ভারতীয় উপমহাদেশে গর্ভকালীন এমন রীতির ভিন্ন ভিন্ন আঞ্চলিক রূপ রয়েছে। বাংলায় যেমন ‘সাধ’, দক্ষিণ ভারতে তেমনি ‘ভালাইকাপ্পু’। পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাবে ‘বেবি শাওয়ার’ নামটিই এখন বেশি পরিচিত। নাম ও আয়োজনের ধরন আলাদা হলেও এসব রীতির মূল আকাঙ্ক্ষা একই—মায়ের সুস্থতা, নিরাপদ প্রসব এবং অনাগত শিশুর মঙ্গল কামনা।

২০২৬ সালের জুনে প্রকাশ্যে আসে সামান্থার গর্ভাবস্থার খবর। ২৪ জুন ‘মা ইনতি বাঙ্গারাম’ সিনেমার সাফল্য উদ্যাপনের অনুষ্ঠানে অভিনেত্রী নিজেই তাঁর গর্ভাবস্থার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। একই সঙ্গে জানান, কিছুদিনের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যাচ্ছেন তিনি।
ব্যক্তিজীবনে ২০২১ সালে নাগা চৈতন্যের সঙ্গে বিচ্ছেদের চার বছর পর ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর চলচ্চিত্র নির্মাতা রাজ নিদিমোরুকে বিয়ে করেন সামান্থা। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের প্রথম দিকেই সামান্থা ও রাজের ঘর আলো করে আসবে নতুন সদস্য।



