আবেগঘন বার্তা দিলেন কন্যা, রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাবার প্রথম ঠাকুরগাঁও সফর

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব যত বড়ই হোক, সন্তানের কাছে বাবা তো শেষ পর্যন্ত বাবাই। রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের আড়ালেও থেকে যায় সেই চিরচেনা মানুষটি—যাঁকে ঘিরে সন্তানের আবেগ, ভালোবাসা আর গর্বের কোনো কমতি নেই। এমনই এক আবেগঘন অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বড় মেয়ে ড. শামারুহ মির্জার কথায়।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বাবার নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথম সফর এবং নাগরিক সংবর্ধনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন ড. শামারুহ। সেখানে তিনি তুলে ধরেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের সঙ্গে তাঁদের পরিবারের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার কথা।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আজ আব্বু ঠাকুরগাঁওয়ে যাচ্ছেন নাগরিক সংবর্ধনায়। খুব মিস করছি আমি। ঠাকুরগাঁওয়ের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা আর ভালোবাসা অন্তহীন।’ বাবার এই বিশেষ সফরের মুহূর্তে পাশে থাকতে না পারার আক্ষেপও যেন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তাঁর কথায়। একই সঙ্গে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের প্রতি তাঁদের পরিবারের যে গভীর টান, সেটিও উঠে এসেছে তাঁর লেখায়।
তবে পোস্টের সবচেয়ে আবেগঘন অংশটি ছিল বাবাকে নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রকাশ। সম্প্রতি এক সাংবাদিকের সঙ্গে হওয়া কথোপকথনের স্মৃতিচারণ করে ড. শামারুহ জানান, তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল—রাষ্ট্রপতির মেয়ে হিসেবে তাঁর অনুভূতি কেমন? জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘প্রেসিডেন্ট অর নট, হি ইস অলওয়েজ মাই আব্বু, মাই হিরো!’ ছোট্ট এই কথার মধ্যেই যেন ধরা পড়ে বাবা-মেয়ের সম্পর্কের এক গভীর সত্য। রাষ্ট্রপতির পদ, দায়িত্ব কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে সন্তানের চোখে বাবা থেকে যান সেই আগের মানুষটিই। আর সেই মানুষটিই সন্তানের কাছে হয়ে ওঠেন জীবনের নায়ক।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাবার ঠাকুরগাঁও সফর তাই শুধু একটি আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় সফর নয়; ড. শামারুহ মির্জার কাছে এটি নিজের শিকড়, মানুষের ভালোবাসা এবং বাবাকে ঘিরে অসংখ্য আবেগের সঙ্গেও জড়িয়ে থাকা একটি বিশেষ মুহূর্ত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টটি প্রকাশের পর তা দ্রুতই নেটিজেনদের নজরে আসে। বাবা-মেয়ের সম্পর্কের এমন সরল ও আন্তরিক প্রকাশ অনেকের মন ছুঁয়ে যায়। বিশেষ করে ‘আমার আব্বু, আমার হিরো’—এই অনুভূতিটি হয়ে ওঠে আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।
পদ-পদবির ঊর্ধ্বে উঠে একজন বাবাকে সন্তানের চোখে দেখার এই গল্প তাই সহজেই ছুঁয়ে গেছে মানুষের আবেগ। রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ঠাকুরগাঁও সফরের দিনে তাঁর কন্যার এই বার্তা যেন মনে করিয়ে দিল—দায়িত্বের পরিচয় বদলালেও প্রিয় মানুষের কাছে সম্পর্কের পরিচয় বদলায় না।



