অভিনয়ই আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে: পারসা ইভানা

নৃত্যশিল্পী ও মডেল হিসেবে মিডিয়ায় পথচলা শুরু করেছিলেন পারসা ইভানা। পরবর্তীতে অভিনয়ে এসে নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেন তিনি। বিশেষ করে ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ নাটকের ইভা চরিত্রটি তাকে দর্শকের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দেয়। এরপর বিভিন্ন নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের অভিনয়দক্ষতারও পরিচয় দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

সম্প্রতি ইউটিউবে প্রকাশ পেয়েছে পারসা ইভানা অভিনীত নাটক ‘বিভ্রম’। ইয়াশ রোহানের সঙ্গে এটি তার প্রথম কাজ। নাটকটি বেশ আগে নির্মিত হলেও সম্প্রতি প্রকাশের পর দর্শকদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছেন বলে জানান অভিনেত্রী। তার ভাষায়, কোনো কাজ শুধু বিনোদন দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দর্শককে গল্প ও চরিত্র নিয়ে ভাবতে বাধ্য করলে সেটিই তার কাছে বেশি ভালো লাগে। ‘বিভ্রম’ নাটকে ভালোবাসা, মানসিক দ্বন্দ্ব ও সম্পর্কের নানা জটিলতা তুলে ধরা হয়েছে, যা কাজটিকে তার কাছেও বিশেষ করে তুলেছে।

সম্প্রতি ‘সম্পর্ক’ নাটকে তারিক আনাম খানের বিপরীতে অভিনয় করেছেন পারসা। বাবা-মেয়ের সম্পর্কের গল্পে নির্মিত এই নাটকটিকেও নিজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে দেখছেন তিনি। গুণী অভিনেতা তারিক আনাম খানের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে পারসা জানান, তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার সুযোগ হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অত্যন্ত সহযোগিতাপরায়ণ একজন শিল্পী বলেও উল্লেখ করেন।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন পারসা ইভানা। মূলত মায়ের সঙ্গে সময় কাটাতেই সেখানে গেছেন তিনি। এর পাশাপাশি বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা, ঘোরাঘুরি ও আড্ডায় সময় কাটছে তার। এরই মধ্যে ক্যাটস্কিল মাউন্টেন ও জিম থর্প ঘুরে দেখেছেন। নিউইয়র্কের বিভিন্ন জায়গাতেও ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বন্ধুদের সঙ্গে নাচের কভার করার পাশাপাশি মায়ের সঙ্গে নিজের মতো করে সময় কাটাতে পেরে বেশ আনন্দিত এই অভিনেত্রী।

যুক্তরাষ্ট্রকে নিজের বাড়ির মতো মনে হয় বলেও জানান পারসা। সেখানে তার মা ছাড়াও অনেক বন্ধু ও পরিচিত মানুষ রয়েছেন। ফলে নিউইয়র্কে গেলে তার মধ্যে আপন একটি অনুভূতি তৈরি হয়। ঢাকার তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে তার বন্ধুর সংখ্যাও বেশি বলে জানান তিনি। সেখানে নিজের মতো করে সময় কাটানোর সুযোগ পান। এবার যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে পুরোনো এক শিক্ষকের সঙ্গেও দেখা করেছেন এবং তার একটি ক্লাসেও অংশ নিয়েছেন। পরিচিত মানুষদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় তার ভালো লেগেছে।
কিছুদিন আরও যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পরিকল্পনা রয়েছে পারসার। এই সময়ে মায়ের সঙ্গে ঘোরাঘুরি করার পাশাপাশি নিজের মতো করে সময় কাটাতে চান তিনি। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রে থাকলে মানসিকভাবে প্রশান্তি অনুভব করেন।
নাচের সঙ্গেও তার সম্পর্ক এখনো আগের মতোই রয়েছে। অভিনয়ে আসার পরও নাচকে নিজের জীবন থেকে বাদ দেননি পারসা। বরং অভিনয়ের পাশাপাশি নাচও নিয়মিত করেছেন। ভবিষ্যতে ভালো কোনো সুযোগ এলে নাচ নিয়ে আরও কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে তার। অভিনয় ও নাচ—দুটোকেই নিজের সৃজনশীলতার জায়গা হিসেবে দেখেন তিনি।

সিনেমায় অভিনয়ের বিষয়ে পারসার অবস্থানও বেশ পরিষ্কার। শুধু সিনেমায় অভিনয় করতেই হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা তিনি অনুভব করেন না। তবে ভালো গল্প ও পছন্দের চরিত্র পেলে বড়পর্দায় কাজ করতে অবশ্যই আগ্রহী। তার কাছে কাজের মাধ্যমের চেয়ে গল্প ও চরিত্র বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ইউটিউব, ওটিটি কিংবা সিনেমা—যে মাধ্যমেই হোক, ভালো গল্প ও চরিত্র পেলে কাজ করতে আপত্তি নেই তার।
‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর ইভা চরিত্রটি এখনো দর্শকের মনে জায়গা করে আছে। পঞ্চম সিজনে তাকে দেখা না গেলেও দর্শক চরিত্রটিকে মিস করেছেন। বিষয়টি পারসার জন্য আনন্দ ও গর্বের। অধিকাংশ মানুষ এখনো তাকে ইভা নামেই চেনেন। একজন অভিনেত্রীর জন্য একটি চরিত্র দর্শকের মনে এতটা জায়গা করে নেওয়াকে বড় অর্জন হিসেবেই দেখেন তিনি। তার ক্যারিয়ারে ইভা চরিত্রটি বিশেষ একটি জায়গা করে নিয়েছে এবং এটিকে নিজের জন্য আশীর্বাদ বলেই মনে করেন পারসা।

ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অবশ্য এখনই খুব বেশি কিছু বলতে চান না এই অভিনেত্রী। প্রেম বা বিয়ে নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জানান, এই মুহূর্তে তার মনোযোগ কাজ ও নিজেকে নিয়ে। ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে বেশি কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না তিনি। সময় হলে এসব বিষয়ে সবাই জানতে পারবেন। আপাতত নিজের কাজ, নতুন কিছু শেখা এবং জীবনকে উপভোগ করাই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
অভিনয়জীবনে প্রায় এক দশক পার করেছেন পারসা ইভানা। এই দীর্ঘ পথচলাকে জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখেন তিনি। তার মতে, অভিনয়ে না এলে হয়তো পৃথিবীটাকে এতটা কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেতেন না। দর্শক তার কাজ পছন্দ করেন—এ বিষয়টি তাকে নতুন কিছু করার অনুপ্রেরণা দেয়। একই সঙ্গে এর ফলে নিজের প্রতি দায়িত্বও বেড়ে যায়। অভিনয়কে আরও ভালোভাবে শেখার জন্য তিনি কোর্সও করেছেন।

পারসা মনে করেন, অভিনয়ে না এলে তার জীবন হয়তো সম্পূর্ণ অন্যরকম হতো। নাচের মাধ্যমে মিডিয়ায় ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন তিনি। অভিনয়ে না এলে হয়তো নাচ নিয়েই এগিয়ে যেতেন কিংবা কোনো একসময় স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। কিন্তু অভিনয়ে আসার পর তার জীবনের গতিপথ বদলে গেছে। অভিনয়ের মাধ্যমে অনেক নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, অনেক কিছু শিখেছেন এবং নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করার সুযোগ পেয়েছেন। আর নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে তার বরাবরই ভালো লাগে। সেই চ্যালেঞ্জই তাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দেয়।



