বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬
বিবিধ

পর্দাঘেরা ‘মহিলা রিকশায়’ ফিরে এলো পুরোনো ঢাকার স্মৃতি

image-322853-1787990779

পর্দাঘেরা একটি রিকশা। দেখলে মনে হবে পুরোনো ঢাকার কোনো সড়ক থেকে উঠে এসেছে অতীতের সেই বাহন। ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে বের হওয়া বর্ণিল শোভাযাত্রায় এমনই এক ‘মহিলা রিকশা’ বিশেষ নজর কেড়েছে।

একসময়ের এই ঐতিহ্যবাহী বাহনের পাশাপাশি শোভাযাত্রায় ছিল স্টিমার, ঘোড়ার গাড়ি ও পালকি। ঢাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গ নিয়ে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকালে বের হওয়া এ শোভাযাত্রায় যেন একসঙ্গে ধরা দেয় পুরোনো ও বর্তমান ঢাকা।

‘ঢাকা দিবস ২০২৬- হৃদয়ে ঢাকা’ এবং ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের অংশ হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে আয়োজিত ‘ঢাকা শোভাযাত্রা’ লক্ষ্মীবাজার থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নগর ভবনে গিয়ে শেষ হয়। এতে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন।

ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন। এ সময় ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন।

শোভাযাত্রায় ট্রাকে ট্রাকে তুলে ধরা হয় পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার প্রতিকৃতি। ছিল আহসান মঞ্জিল, ঢাকেশ্বরী মন্দির, তারা মসজিদ, আর্মেনিয়ান গির্জা, জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও লালবাগ কেল্লা। বড় ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলা হয় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, লালকুঠি, বৌদ্ধ মন্দির ও ঐতিহ্যবাহী ঢাকা গেটও।

শোভাযাত্রায় ঢাকার পত্তন ও বিকাশে অবদান রাখা ঐতিহাসিক ব্যক্তিদেরও রূপায়ণ করা হয়। রানী ভিক্টোরিয়া, নবাব খাজা আহসানউল্লাহ, লীলা নাগ (রায়), নিকোলাস পোগোজ, জিন্নাবাই ও পরিবিবির মতো ঐতিহাসিক চরিত্রের আদলে সাজেন অংশগ্রহণকারীরা।

পুরান ঢাকার খাদ্যসংস্কৃতিও বাদ যায়নি। শোভাযাত্রায় ছিল বাকরখানি, নান্না বিরিয়ানি ও বিউটি লাচ্ছির প্রতিকৃতি। পাশাপাশি স্টিমার, ঘোড়ার গাড়ি, পালকি এবং পর্দাঘেরা ‘মহিলা রিকশা’ তুলে ধরে ঢাকার পুরোনো যাতায়াতব্যবস্থার স্মৃতিও ফিরিয়ে আনা হয়।

ডিএসসিসির মাসব্যাপী ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের কর্মসূচিতে ২৮ আগস্ট লক্ষ্মীবাজার থেকে নগর ভবন পর্যন্ত ঘোড়ার গাড়ি, রিকশা, ভিনটেজ গাড়ি ও পালকিসহ শোভাযাত্রার আয়োজনের কথা ছিল।

শুক্রবারের শোভাযাত্রায় ইতিহাসের স্থাপনা, ঐতিহাসিক চরিত্র, খাবার ও বাহনের প্রতীকী উপস্থাপনা দেখে পথের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নগরবাসীও মুগ্ধ হন। পুরো আয়োজন যেন পুরোনো ঢাকার স্মৃতিকে বর্তমান নগরজীবনের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়ার এক বর্ণিল প্রয়াস।

উল্লেখ্য, ৪১৬ বছরের ঢাকা তাই এদিন শুধু একটি শহরের বয়স উদ্‌যাপন করেনি; নিজের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকেও নতুন করে সামনে এনেছে।

Advertisements