২৪ অক্টোবর, ২০২৬ | শনিবারবাংলা: ৮ কার্তিক ১৪৩৩
বিবিধ

পাহাড় বেয়ে যেন ‘সুনামি’ ধেয়ে আসছিল: নেপালের বিপর্যয় থেকে বেঁচে ফেরা মার্কিন দম্পতি

পাহাড় বেয়ে যেন ‘সুনামি’ ধেয়ে আসছিল: নেপালের বিপর্যয় থেকে বেঁচে ফেরা মার্কিন দম্পতি

নেপালে সম্প্রতি হিমবাহধস থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের কবল থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক মার্কিন দম্পতি। ফিরে এসে তারা সেই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তাদের ভাষায়, পাহাড়ের ওপর থেকে কাদা ও পানির স্রোত এত দ্রুত নিচে নেমে আসছিল যে, সেটিকে ‘সুনামি’র সঙ্গে তুলনা করা যায়।

বেঁচে যাওয়া এই দুই নাগরিক হলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন দম্পতি অঞ্জনা রাজা (৫২) ও পট্টাভিরামন ভেঙ্কটেশন (৫৬)। নেপালে তারা পেশাদার গাইডের অধীন ভ্রমণে থাকার সময় এই দুর্যোগের মুখে পড়েন।

কাঠমান্ডুতে সিএনএনের প্রতিনিধি উইল রিপলিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দম্পতি জানান, গাইডের তৎপরতার কারণেই মূলত তারা প্রাণে বেঁচে গেছেন। বন্যা শুরু হওয়ার পরপরই ওই গাইড তাদের দ্রুত পাহাড়ের উঁচুতে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান।

এদিকে নেপালে হিমবাহধস থেকে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে কমপক্ষে ৫৪৭ জনে পৌঁছেছে। গত বুধবারের এই দুর্যোগে আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে ১ হাজার ৪৭৩ জন। এখনো অন্তত ৯৭৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক।

নেপালের পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, অঞ্জনা ও পট্টাভিরামনসহ এখন পর্যন্ত ১২১ জন বিদেশিকে উদ্ধার করা হয়েছে।

দুর্যোগকবলিত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান আরও জোরদার করেছে নেপাল সরকার। উদ্ধারকাজে পুলিশের সাড়ে চার হাজারের বেশি সদস্য অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি দুর্গত এলাকায় আরও ১ হাজার ২০০ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তিব্বতের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় চীনের একটি উদ্ধারকারী দলও পৌঁছে কাজ শুরু করেছে।

Advertisements

এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টেও একই অঞ্চলে আকস্মিক বন্যার ঘটনা ঘটেছিল। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে সে সময় তিব্বতের একটি হিমবাহ-হ্রদের পানি উপচে পড়ে। ওই ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু হয়। পাশাপাশি নেপাল ও চীনের মধ্যে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ একটি সেতুসহ বেশ কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

সূত্র: সিএনএন

Advertisements