বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬
স্পটলাইট

আজ রেইনবো ব্রিজ রিমেমব্র্যান্স ডে: হারিয়ে যাওয়া পোষ্যর, অমলিন স্মৃতি

আজ রেইনবো ব্রিজ রিমেমব্র্যান্স ডে: হারিয়ে যাওয়া পোষ্যর, অমলিন স্মৃতি

বাড়িতে একটি পোষ্য থাকা মানেই শুধু একটি প্রাণীর সঙ্গে বসবাস নয়; ধীরে ধীরে সে হয়ে ওঠে পরিবারেরই একজন। দিনের শেষে দরজার কাছে অপেক্ষা করা, মন খারাপ বুঝে নিঃশব্দে পাশে বসে থাকা কিংবা অকারণে আদর চাওয়া—এমন ছোট ছোট মুহূর্তেই তৈরি হয় গভীর এক বন্ধন।

তাই প্রিয় পোষ্যটি যখন একদিন হারিয়ে যায়, তখন তার অনুপস্থিতি শুধু ঘরকেই নয়, মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অনেকটাই শূন্য করে দেয়। তবে সময় পেরিয়ে গেলেও তাদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত, ভালোবাসা আর অসংখ্য স্মৃতি থেকে যায় হৃদয়ের গভীরে। সেই হারিয়ে যাওয়া সঙ্গীদের ভালোবাসা ও স্মৃতিকে সম্মান জানানোর জন্যই প্রতি বছর ২৮ আগস্ট পালিত হয় ‘রেইনবো ব্রিজ রিমেমব্র্যান্স ডে’।

‘রেইনবো ব্রিজ’-এর নেপথ্যে যে আবেগ

‘রেইনবো ব্রিজ’ আসলে একটি আবেগঘন কল্পনার প্রতীক। ধারণাটি এমন, প্রিয় পোষ্যরা মৃত্যুর পর একটি শান্ত, সুন্দর জায়গায় অপেক্ষা করে থাকে। সেখানে নেই অসুস্থতা, কষ্ট কিংবা যন্ত্রণা। একদিন তারা আবার তাদের প্রিয় মানুষের সঙ্গে মিলিত হবে।

এই কল্পনাই বহু পোষ্যপ্রেমীর কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছে। রেইনবো ব্রিজ রিমেমব্র্যান্স ডে-ও সেই আবেগকে কেন্দ্র করেই প্রয়াত পোষ্যদের স্মরণ করার একটি দিন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

‘রেইনবো ব্রিজ’-এর সঙ্গে জড়িয়ে একটি বহুল প্রচলিত কবিতার কথাও বলা হয়। ১৯৫৯ সালে স্কটিশ শিল্পী এডনা ক্লাইন-রেখি পোষ্যদের মৃত্যুর পর তাদের অপেক্ষা করে থাকার এক কাল্পনিক জগতের কথা তুলে ধরেছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ রয়েছে।

Advertisements

ব্যক্তিগত শোক থেকেই শুরু

এই স্মরণ দিবসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ডেবোরা বার্নসের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। ২০১৩ সালের ২৮ আগস্ট তার প্রিয় বিড়াল মিস্টার জ্যাজ মারা যায়। পোষ্যকে হারানোর কষ্ট সামলাতে নিজের অনুভূতি লিখে ফেলেন তিনি।

পরবর্তীতে মিস্টার জ্যাজ়কে ঘিরে তার স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রকাশিত হয় ‘পার প্রিন্টস অব দ্য হার্ট – আ ক্যাটস টেল অব লাইফ, ডেথ অ্যান্ড বিয়ন্ড’ বইটি। এটি পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। বিশেষ করে যারা নিজেদের পোষ্যকে হারিয়েছেন, তারা ডেবোরার লেখার সঙ্গে নিজেদের অভিজ্ঞতার মিল খুঁজে পান।

একজনের ব্যক্তিগত শোক ধীরে ধীরে পরিণত হয় বহু মানুষের সম্মিলিত অনুভূতিতে। সেখান থেকেই প্রয়াত পোষ্যদের জন্য আলাদা করে একটি স্মরণ দিবসের ভাবনা সামনে আসে।

শুধু কুকুর-বিড়াল নয়

পোষ্য বলতে শুধু কুকুর বা বিড়ালকেই বোঝায় না। কারও জীবনের প্রিয় সঙ্গী হতে পারে একটি ছোট হ্যামস্টার, পাখি, খরগোশ কিংবা সরীসৃপও। প্রজাতি আলাদা হলেও মানুষের সঙ্গে তৈরি হওয়া সম্পর্কের আবেগ একই রকম গভীর হতে পারে।

তাই এই দিনে বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ নিজেদের প্রয়াত পোষ্যের ছবি প্রকাশ করেন, পুরনো গল্প বলেন, তাদের স্বভাব বা মজার কাণ্ডের কথা মনে করেন। সামাজিক মাধ্যমে স্মৃতিচারণের সময় অনেকেই

স্মৃতিচারণের বাঁধাধরা নিয়ম নেই

এই দিনটি পালনের জন্য কোনও নির্দিষ্ট আচার বা নিয়ম নেই। বরং নিজের মতো করে প্রিয় পোষ্যকে মনে করাই এর মূল উদ্দেশ্য।

পুরনো ছবির অ্যালবাম খুলে বসা থেকে শুরু করে পোষ্যের কোনও ছবি আঁকা সবই হতে পারে স্মরণ করার উপায়। কেউ পোষ্যের নামে অনলাইন মেমোরিয়াল তৈরি করেন, কেউ তার প্রিয় খেলনা, কলার বা অন্য কোনও স্মারক যত্ন করে রেখে দেন।

স্মৃতির সঙ্গে বড় হতে পারে একটি গাছ

যারা একটু অন্যভাবে স্মৃতি ধরে রাখতে চান, তারা বাড়ির বাগানে একটি গাছ বা ফুলের চারা লাগাতে পারেন। সময়ের সঙ্গে সেই গাছ বড় হবে, ফুল ফুটবে, নতুন পাতা আসবে। পোষ্যের স্মৃতিতে লাগানো সেই গাছ তখন হয়ে উঠতে পারে একটি জীবন্ত স্মারক।

একটি মোমবাতিও হতে পারে স্মরণের প্রতীক

দিনের শেষে নিরিবিলি সময়ে একটি মোমবাতি জ্বালিয়ে কিছুক্ষণ প্রিয় পোষ্যের কথা ভাবতে পারেন। পুরনো ছবি দেখতে পারেন, তার সঙ্গে কাটানো প্রিয় মুহূর্তগুলি মনে করতে পারেন।

শোককে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা না করে স্মৃতিগুলিকে ভালোবাসার সঙ্গে গ্রহণ করাও অনেকের কাছে মানসিক ভাবে স্বস্তিদায়ক হতে পারে।

অন্য প্রাণীর জন্য কিছু করুন

প্রয়াত পোষ্যের স্মৃতিকে সম্মান জানানোর সবচেয়ে অর্থবহ উপায়গুলির একটি হতে পারে অন্য কোনও প্রাণীর পাশে দাঁড়ানো। কোনও পশু আশ্রয়কেন্দ্রে খাবার বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়া, চিকিৎসার জন্য সাহায্য করা কিংবা অসহায় প্রাণীর কল্যাণে কাজ করা যেতে পারে।

মূলত রেইনবো ব্রিজ রিমেমব্র্যান্স ডে উপলব্ধি করায় মানুষের সঙ্গে পোষ্যের সম্পর্ক কতটা গভীর হতে পারে। একটি পোষ্য হয়তো মানুষের জীবনে কয়েক বছর বা তারও বেশি সময় থাকে, কিন্তু সেই সময়ের মধ্যে তৈরি হওয়া বন্ধন অনেক দীর্ঘস্থায়ী হয়।

তাই ২৮ আগস্ট শুধু হারিয়ে যাওয়া পোষ্যদের জন্য মন খারাপ করার দিন নয়। বরং তারা জীবনে যে আনন্দ, সঙ্গ, ভালোবাসা এবং অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত দিয়ে গিয়েছে, সেগুলিকে উদ্‌যাপন করার দিনও।

Advertisements