বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬
স্পটলাইট

চলতি মাসে ঊর্ধ্বমুখী ডেঙ্গু, সেপ্টেম্বরে ভয়াবহতার শঙ্কা

IMG_4095

বর্ষা মৌসুমের শেষদিকে থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের কারণে এডিস মশার প্রজনন বাড়ছে, আর এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গু সংক্রমণও। গত তিন বছরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এ কারণে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত ৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩০ হাজার ৮৩০ জন। শুধু আগস্ট মাসের প্রথম ২৫ দিনেই বছরের প্রায় অর্ধেক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং মৃত্যু হয়েছে সর্বোচ্চ ৩৪ জনের। গতকাল দেশে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯০৭ জন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা ও জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। ফলে আগস্টের শেষ দিক থেকে সেপ্টেম্বরজুড়ে ডেঙ্গু সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে। তারা বলছেন, শুধু ওষুধ ছিটানো বা হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়িয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; প্রজননস্থল ধ্বংস এবং স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর মশা নিয়ন্ত্রণ জরুরি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, আগস্টের শেষ দিকে সংক্রমণের যে ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে, তাতে সেপ্টেম্বর নিয়ে উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। মানুষকে সম্পৃক্ত করে সামাজিকভাবে মশা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিতে হবে।

আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ডেঙ্গু এখন শুধু ঢাকায় সীমাবদ্ধ নয়। তাই জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দ্রুত পরীক্ষা, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে কোথায় মশা ও রোগী বাড়ছে, তা নিয়মিত নজরদারির আওতায় আনতে হবে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৩ সালে আগস্টে ৭১ হাজার ৯৭৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হলেও সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৯ হাজার ৫৯৮ জনে। একই সময়ে মৃত্যু ৩৪২ থেকে বেড়ে হয় ৩৯৬ জন। ২০২৪ সালে আগস্টের ৬ হাজার ৫২১ রোগী সেপ্টেম্বরে বেড়ে হয় ১৮ হাজার ৯৭ জন এবং মৃত্যু ২৭ থেকে বেড়ে ৮০ জনে পৌঁছায়। ২০২৫ সালেও আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছিল।

চলতি বছরের পরিস্থিতিও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ২৪ আগস্ট এক দিনেই ৯৯৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন, যা ছিল এ বছরের সর্বোচ্চ দৈনিক রেকর্ড। পরদিনও ভর্তি হন ৯০৭ জন। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আগস্টের শেষ সপ্তাহের এই ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ সেপ্টেম্বরে হাসপাতাল ভর্তি ও মৃত্যুর সংখ্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

ডেঙ্গুর বিস্তার এখন শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক নয়। দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলায় রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত ২৪ আগস্ট খুলনা বিভাগে সর্বোচ্চ ২১৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ঢাকার বাইরের এলাকাতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী শনাক্ত হয়েছে। ফলে আগামী মাসে রাজধানীর বাইরে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবার ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ শুধু স্বাস্থ্য বিভাগের কাজ নয়; স্থানীয় সরকার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া পরিস্থিতি মোকাবিলা করা কঠিন হবে।

Advertisements