হাসপাতালের ভুলে অন্যের সন্তান নিয়ে বাড়ি গেল পরিবার

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে এক নবজাতককে ভুল করে অন্য পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ঘটনা ঘটেছে। জামালপুরের একটি পরিবার শিশুটিকে নিয়ে বাড়িতে চলে যাওয়ার পর বিষয়টি ধরা পড়ে। দুই নবজাতকের মায়ের নাম একই হওয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের অবহেলায় এমন বিভ্রান্তি তৈরি হয়। পরে রাতেই জামালপুর থেকে নবজাতকটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকালে যাচাই-বাছাই শেষে দুই পরিবারের হাতে তাদের নিজ নিজ সন্তানকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জামালপুরের সরিষাবাড়ীর নাদিরা-মাসুদ ইসলাম দম্পতি এবং ময়মনসিংহের গৌরীপুরের নাদিরা-আবু রায়হান দম্পতির কন্যাসন্তান—দুই নবজাতককেই গত শনিবার মমেক হাসপাতালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (এনআইসিইউ)তে ভর্তি করা হয়। দুই শিশুর মায়ের নাম একই হওয়ায় পরবর্তী সময়ে পরিচয় শনাক্তকরণে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।
গত সোমবার বিকেলে জামালপুরের পরিবারটিকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভুলে তাদের হাতে গৌরীপুরের দম্পতির নবজাতককে তুলে দেওয়া হয়। শিশুটিকে নিয়ে ওই পরিবার জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে নিজেদের বাড়িতে চলে যায়।
এদিকে সোমবার সন্ধ্যার দিকে গৌরীপুরের পরিবারটি হাসপাতাল থেকে তাদের সন্তানকে নিতে গেলে শিশুটির চেহারা দেখে সন্দেহ হয়। তারা বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানালে যাচাই-বাছাই করে ভুলের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে জামালপুরে থাকা নবজাতকটিকে রাতেই উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
গৌরীপুরের পরিবারের পক্ষে রুহুল আমিন বলেন, নবজাতকের পায়ের টোকেনে বাবা-মায়ের নাম ও সিরিয়াল নম্বর লেখা থাকে। দুই শিশুর মায়ের নাম একই হলেও বাবার নাম আলাদা ছিল। এরপরও কীভাবে একজনের সন্তান অন্য পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হলো, তার কোনো যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা নেই। দায়িত্বপ্রাপ্তদের আরও সতর্কতার সঙ্গে পরিচয় যাচাই করা উচিত ছিল।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. জাকিউল ইসলাম বলেন, দুই নবজাতকের মায়ের নাম একই হওয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত এই বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছিল। পরে বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে নবজাতকটিকে উদ্ধার করা হয় এবং মঙ্গলবার সকালে দুই পরিবারের কাছে তাদের নিজ নিজ সন্তান বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।



