বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনমঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬
বিবিধ

সুযোগ পেলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরাও দেশের সম্পদ: ডিসি ফরিদা

watermarked_img_4878533477815058014 (1)

সঠিক যত্ন, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরাও ভবিষ্যতে পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম।

মঙ্গলবার রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে প্রতিবন্ধী শিশু উন্নয়ন সংগঠন ‘মায়ার বাঁধন’-এর এক দশক পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের মধ্যে খাবার ও উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

ফরিদা খানম বলেন, কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা একজন মানুষের মেধা, প্রতিভা কিংবা সম্ভাবনার সীমা ঠিক করে দিতে পারে না। এর উদাহরণ হিসেবে তিনি বিশ্বখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংয়ের কথা উল্লেখ করেন। শারীরিকভাবে গুরুতর সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বিজ্ঞানের জগতে তার অসামান্য অবদান প্রমাণ করে, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা মানুষের জ্ঞান, স্বপ্ন ও সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।

তিনি বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের মধ্যেও অনেক প্রতিভা ও সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের সীমাবদ্ধতার দিকে না তাকিয়ে সক্ষমতা ও আগ্রহকে গুরুত্ব দিতে হবে। উপযুক্ত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং সহযোগিতা পেলে এসব শিশু ভবিষ্যতে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করার পাশাপাশি পরিবার ও দেশের জন্য গর্ব বয়ে আনতে পারে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, এসব শিশুর প্রয়োজন করুণা নয়; বরং তাদের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করলে তাদের প্রতিভা বিকাশের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব। একটি শিশুর প্রতিবন্ধকতা তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না, বরং প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সুযোগই তার সামনে সম্ভাবনার নতুন পথ খুলে দিতে পারে।

‘মায়ার বাঁধন’-এর ১০ বছরের কার্যক্রমের প্রশংসা করে ফরিদা খানম বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের দীর্ঘদিন ধরে যত্ন ও মমতায় পাশে থেকে সংগঠনটি একটি মানবিক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। তাদের কার্যক্রম শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; শিশুদের নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

Advertisements

তিনি বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অনেক অভিভাবকের বড় উদ্বেগ হলো—তাদের অনুপস্থিতিতে সন্তানদের ভবিষ্যৎ কী হবে। এই দুশ্চিন্তা কমাতে স্থায়ী ও নিরাপদ আবাসন গড়ে তোলার উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সক্ষম মানুষকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় অটিস্টিক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুদের কল্যাণে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি উপযুক্ত ক্ষেত্রে খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়ার আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘মায়ার বাঁধন’-এর সভাপতি মোসা. ফওজিয়া ইয়াসমীন। এতে অভিভাবক, সংগঠনের সদস্য, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে ৯৬ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ১৬ জন এতিম এবং ১১ জনের শুধু মা রয়েছেন। পরে শিশুদের মধ্যে খাবার ও উপহার বিতরণ করা হয়।

‘মায়ার বাঁধন’ একটি অরাজনৈতিক প্রতিবন্ধী শিশু উন্নয়ন সংগঠন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য স্থায়ী আবাসন তৈরি এবং তাদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাকে সংগঠনটি অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছে। গত ১০ বছর ধরে এ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতি সমাজের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি তাদের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। সংগঠনটির স্থায়ী আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে সমাজের সব শ্রেণির মানুষের সহযোগিতাও কামনা করেন তারা।

Advertisements