শুরু হচ্ছে কলেরার টিকাদান কর্মসূচি, প্রথম ডোজ কবে?

দেশে কলেরার সংক্রমণ ও মৃত্যুহার কমাতে বড় পরিসরে শুরু হচ্ছে মুখে খাওয়ার কলেরার টিকাদান কর্মসূচি। আগামী শনিবার থেকে নির্ধারিত এলাকাগুলোতে শুরু হবে প্রথম ডোজ দেওয়া। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে। কর্মসূচির আওতায় এক বছরের বেশি বয়সী সবাইকে টিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবন মিলনায়তনে ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬’ উদ্বোধন করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আয়োজিত অনুষ্ঠানে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক হালিমুর রশিদ জানান, এবারের কর্মসূচিতে মোট ৫১ লাখ ৭৫ হাজার ২৫ জনকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তাঁদের জন্য প্রায় ১ কোটি ৩ লাখ ৫০ হাজার ৫৪ ডোজ টিকার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোট ১৪টি এলাকায় এ টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হবে। কর্মসূচিতে সহযোগিতা করছে গ্যাভি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফ, আইএফআরসি ও আইসিডিডিআরবি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, কলেরার টিকা শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে সক্রিয় করে এবং কলেরার জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তুলতে সহায়তা করে। তবে শুধু টিকাদানের মাধ্যমে কলেরা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার ব্যবস্থাও জরুরি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশে নতুন করে ম্যালেরিয়া ও এইচআইভি-এইডসসহ বিভিন্ন রোগের সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে। এসব রোগ মোকাবিলায় চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রশাসন একসঙ্গে কাজ করছে।
তিনি বলেন, অসচেতনতা ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন মানুষকে বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকিতে ফেলছে। করোনা মহামারির সময়ের মতো নিয়মিত হাত ধোয়া, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মাস্ক ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুললে ভবিষ্যতে অনেক সংক্রামক রোগ ও মহামারি প্রতিরোধ করা সম্ভব।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ ও দৈনন্দিন জীবনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেন।
২০৩০ সালের লক্ষ্য
কলেরার প্রকোপ কমাতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে কলেরাজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যুহার ৯০ শতাংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
তবে এই লক্ষ্য অর্জনে টিকাদানের পাশাপাশি নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ দূষিত পানি ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ কলেরার অন্যতম প্রধান ঝুঁকি তৈরি করে।
কারা টিকা নিতে পারবেন না
কর্মসূচিতে এক বছরের বেশি বয়সী সবাইকে টিকা নেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্তঃসত্ত্বা নারী, তীব্র সংক্রমণে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং যাঁদের টিকার কোনো উপাদানে গুরুতর অ্যালার্জির ইতিহাস রয়েছে, তাঁদের এই টিকা না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, জনগণের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোগ প্রতিরোধকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে।
তিনি কর্মসূচি সফল করতে নির্ধারিত এলাকার এক বছরের বেশি বয়সী সবাইকে টিকাদানকেন্দ্রে গিয়ে কলেরার টিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।



