বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
বিবিধ

পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি ও বিক্রির অভিযোগে ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া গ্রেপ্তার

IMG_3699

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি, প্রচার ও বিক্রির অভিযোগে সুমাইয়া সাঈদ (২৫) নামে এক ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সারকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একই ঘটনায় তার সহযোগী খাজা সাকলাইন ফারুককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে সুমাইয়াকে গ্রেপ্তার করে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের একটি দল। এ সময় তার কাছ থেকে দুটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাতে বাড্ডা লিংক রোড এলাকা থেকে সহযোগী খাজা সাকলাইন ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকেও একটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) ডিএমপির গোয়েন্দা-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, একটি চক্র ইনস্টাগ্রাম, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পর্নোগ্রাফিক ভিডিও ও ছবি তৈরি করে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট টেলিগ্রাম গ্রুপ ও চ্যানেলে অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করছিল। এসব লেনদেনে বিকাশ ও নগদের মতো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হতো।

প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের অবস্থান শনাক্ত করার পর অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ এবং জব্দ করা মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্টের বিজ্ঞাপন, বিক্রি ও আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্তে এ কার্যক্রমের সঙ্গে আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে ডিবি। পাশাপাশি জব্দ করা মোবাইল ফোনগুলো ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগতভাবে পরীক্ষা করা হবে। সংশ্লিষ্টদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট, আর্থিক লেনদেন এবং সহযোগীদের বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর প্রাসঙ্গিক ধারায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। একই মামলায় সুমাইয়ার বাবা মো. আবু সাঈদকেও আসামি করা হয়েছে। মেয়ের কথিত অনৈতিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত থেকেও তার উপার্জনে সম্মতি ও অর্থ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ডিসি তরিকুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি, প্রচার, বিজ্ঞাপন, বিক্রি কিংবা এসব অপরাধে সহযোগিতার বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি নাগরিকদের ব্যক্তিগত বা আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও অনুমতি ছাড়া ধারণ, সংরক্ষণ, প্রচার, বিক্রি বা অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

Advertisements
গ্রেপ্তারনারী