বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
শিক্ষা

এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬: এগিয়ে যাচ্ছে মেয়েরা

এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬: এগিয়ে যাচ্ছে মেয়েরা

একটি দেশের উন্নয়ন মানে শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়। অনেকগুলো সূচকে উন্নয়ন করতে হয় দেশকে। নারীর ক্ষমতায়ন এমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। নারীর ক্ষমতায়নের জন্য কাজ হচ্ছে আমাদের দেশেও। আর এ জন্য সরকারকে নারীশিক্ষার ওপর জোর দিতে হচ্ছে অনেক। নিতে হচ্ছে অনেক প্রণোদনামূলক ব্যবস্থা। আর এর ইতিবাচক প্রভাবও পড়েছে বেশ। শিক্ষাক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে এ দেশের মেয়েরা/নারীরা।

এরই ধারাবাহিকতায় আজ আমি মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার ক্ষেত্রে পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলে ছেলেদের পেছনে ফেলে মেয়েদের এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরব। এটা রূপকথার কোনো গল্প নয়। একেবারে বাস্তবের গল্প। আমার বিশ্বাস, আমার এই লেখা পড়ে মেয়েদের অভিভাবকেরা মন ভালো হয়ে যাবে। আর ছেলেদের অভিভাবকদের মনটা একটু খারাপ হয়ে যাবে। সবার না হলেও অনেকের। কিন্তু বাস্তবতা তো মেনে নিতেই হবে। আর উদ্বিগ্ন না হয়ে সময়মতো যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়াটাই জরুরি।

এ প্রসঙ্গে আমি আমার অভিজ্ঞতাটা একটু শেয়ার করি। আমি যখন নেত্রকোনায় সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার ছিলাম, তখন বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে দেখতাম, প্রত্যেক শ্রেণিতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের তালিকায় মেয়েরা এগিয়ে আছে। এরপর নেত্রকোনার কেন্দুয়া জয়হরি স্প্রাই পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের সময় সেখানেও একই অবস্থা দেখলাম। আমার পরবর্তী ও শেষ কর্মস্থল নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কাজ করার সময়ও একই অবস্থা চোখে পড়ে। তাই এর পর থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল এবং মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষায় মেয়েরা কেমন ফলাফল করছে, তা আগ্রহের সঙ্গে লক্ষ্য করি এবং সব ক্ষেত্রেই মেয়েদের ক্রমান্বয়ে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি চোখে পড়ে।

মাত্র কয়েক দিন আগে প্রকাশিত হলো ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল। এই পরীক্ষায় ছেলে ও মেয়েদের ফলাফলের তুলনামূলক আলোচনা করার যৎসামান্য চেষ্টা করব আমি।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায় ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে ছেলেদের তুলনায় পাসের হার এবং জিপিএ-৫ উভয় সূচকেই মেয়েরা ব্যাপক ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম যে সব শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ৯,১১,০০০ জন ছাত্রীর মধ্যে ৬,০৭,৯৩৯ জন ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়েছে, ফলে মেয়েদের পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৬.৬৮ শতাংশ।

অন্যদিকে ৯ লাখ ১৭,৬৯৪ জন ছাত্রের মধ্যে ৫ লাখ ৩০ হাজার ৯৩৮ জন ছাত্র উত্তীর্ণ হয়েছে, ফলে ছেলেদের পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৭.৮৬ শতাংশ।

Advertisements

এ বছর ৬৩,৮৯৬ জন ছাত্রী ও ৫২,৭৮০ জন ছাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছে। এখানেও পার্থক্যটা চোখে পড়ার মতো।

১১টি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার এবং শীর্ষ গ্রেড অর্জন, সব দিক থেকেই ছাত্রীরা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখেছে। এর মানে হলো মেধার দৌড়ে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা সুস্পষ্টভাবে এগিয়ে আছে। একদিক থেকে দেশের জন্য নিঃসন্দেহে এটা একটা মঙ্গলজনক বিষয়। অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে অনগ্রসর রেখে কোনো দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। আর আমাদের দেশের মতো একটা দেশে নারীশিক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া চাট্টিখানি কথা নয়।

আমাদের পত্রপত্রিকাগুলোও মেয়েদের ভূয়সী প্রশংসা করে এ প্রসঙ্গে আলাদা শিরোনাম করেছে। দৈনিক প্রথম আলোর শিরোনাম ছিল, ‘এসএসসি ও সমমানে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬, এগিয়ে ছাত্রীরা।’ দৈনিক কালের কণ্ঠের শিরোনাম ছিল, ‘জিপিএ ৫-এ এবারও এগিয়ে মেয়েরা।’ দৈনিক সমকালের শিরোনাম ছিল, ‘পাসের হার ও জিপিএ-৫-এ এবারও এগিয়ে মেয়েরা।’

দ্য ফিনানশিয়াল এক্সপ্রেসের শিরোনাম ছিল, ‘এসএসসির ফলাফলে আবারও ছেলেদের ছাড়িয়ে গেল মেয়েরা।’ ঢাকা ট্রিবিউনের শিরোনাম ছিল, ‘এসএসসি ফলাফল: পাসের হার ও জিপিএ-৫ এ মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে ভালো ফল করেছে।’

আমি এ বছরের এসএসসি পরীক্ষার অল্প কয়েকটা স্কুলের ফলাফলের পরিসংখ্যান তুলে ধরতে চাই, যার মাধ্যমে এ বছর ছেলেরা যে মেয়েদের তুলনায় পিছিয়ে আছে, তার একটা ধারণা পাওয়া যাবে। উল্লেখ্য, যে পরিসংখ্যানের তথ্যগুলো আমি গুগল, ফেসবুক ও ক্ষেত্রবিশেষে সরাসরি ফোনে সংশ্লিষ্ট স্কুল থেকে সংগ্রহ করেছি।

চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজ (এটা ছেলেদের স্কুল) থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৯৩ জন শিক্ষার্থী। অন্যদিকে ডা. খাস্তগীর উচ্চ বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৩২৭ জন শিক্ষার্থী।

ছেলেদের স্কুল ময়মনসিংহ জেলাস্কুল থেকে জিপিএ ৫ পেয়েছে ১৬৫ জন শিক্ষার্থী। অন্যদিকে একই শহরের মেয়েদের স্কুল বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে জিপিএ ৫ পেয়েছে ২৩৬ জন শিক্ষার্থী।

কিশোরগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় (কিশোরগঞ্জ বয়েজ হাইস্কুল) থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ৮৪ জন শিক্ষার্থী। অন্যদিকে কিশোরগঞ্জের সরযূ বালা (এসবি/এসভি) সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে জিপিএ–৫ পেয়েছে মোট ৯২ শিক্ষার্থী।

আমার জেলা ছেলেদের স্কুল নেত্রকোনার আঞ্জুমান আদর্শ সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে জিপিএ–৫ পেয়েছে ৪৫ শিক্ষার্থী। অন্যদিকে নেত্রকোনা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে জিপিএ–৫ পেয়েছে ৯৩ শিক্ষার্থী।

এমন আরও অনেক স্কুলের কথা বলা যাবে যেখানে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা ভালো করেছে। তবে কিছু কিছু স্কুলে ছেলেরাও ভালো করেছে। কিন্তু এমন স্কুলের সংখ্যা বা ছেলের সংখ্যা কম। তাই সারা দেশের ফলাফলে মেয়েরা যেখানে সুস্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে সেখানে আলাদা আলাদা স্কুলের ছেলেমেয়েদের ফলাফলের তুলনামূলক পরিসংখ্যান বাড়িয়ে লেখাটার আর মাথা ভারি করতে চাই না।

মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে তাতে অখুশি হওয়ার কোনো কারণ নাই। কারণ, ছেলেরা যেমন আমাদের সন্তান, মেয়েরাও তেমনি আমাদেরই সন্তান। আমি কখনো চাইব না যে আমার মেয়েটা পিছিয়ে থাক।

কিন্তু সমস্যা হলো আমাদের ছেলেরা পিছিয়ে যাচ্ছে। একসময় মেয়েরা পিছিয়ে ছিল, এটা যেমন খারাপ ছিল, তেমনি ছেলেরা পিছিয়ে গেলেও সমস্যা হবে, ভারসাম্যটা নষ্ট হবে। এটাও কাম্য নয়। ছেলেরা দিন দিন যেভাবে পিছিয়ে যাচ্ছে, তাতে পরিস্থিতি এমন হতে পারে যে একসময় তাদের মধ্যে হতাশা নেমে আসতে পারে। তখন ছেলেদের প্রতিযোগিতায় ফিরিয়ে আনতে সরকারকেই হয়তো প্রাণান্তকর চেষ্টা করতে হতে পারে।

এখন মিলিয়ন ডলারের প্রশ্নটা হলো কীভাবে মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে। আর ছেলেরা কেনই–বা পিছিয়ে যাচ্ছে। রহস্যটা তো খুঁজে বের করতেই হবে। অন্তত আমাদের ছেলেদের সাহায্য করার স্বার্থেই। আমি চাই আমাদের নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা একটা সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার মধ্যে থাকুক। আমি বিষয়টি নিয়ে চিন্তা–ভাবনা করেছি বেশ। আমার ধারণা বেশ কিছু কারণ এর মধ্যে নিহিত। আমার পর্যবেক্ষণগুলো একেক করে তুলে ধরছি।

১. আমাদের দেশে অনেক সময় প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, শিক্ষামন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীসহ উচ্চপদস্থ সরকারি অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে নারীদের অধিষ্ঠিত থাকতে দেখা যায়। এ ছাড়া জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনেক ক্ষেত্রেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে নারীরা অধিষ্ঠিত আছেন/থাকেন। এসব উদাহরণ আমাদের মেয়েদের অনুপ্রাণিত করে। পাশাপাশি সরকার উপবৃত্তিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ ও প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে মেয়েদের শিক্ষা ক্ষেত্রে উৎসাহিত করার চেষ্টা করে থাকে। বেসরকারি অনেক সংস্থাও মেয়েদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করে। আর মেয়েরাও এসব দৃষ্টান্ত ও পদক্ষেপকে সুন্দর ও ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করে অনুপ্রাণিত হচ্ছে এবং এগিয়ে যাচ্ছে।

২. ছেলেরা সাধারণত আড্ডা, বাইরে ঘুরাঘুরি, খেলাধুলা বা মুঠোফোনের পেছনে প্রচুর সময় ব্যয় করে, যা মেয়েরা করে না। ফলে মেয়েরা পড়াশোনা করার সময় ও সুযোগ পায় বেশি। আর এই সুযোগকে মেয়েরা যে খুব ভালোভাবেই কাজে লাগাচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।

৩. আর একটা বিষয় হলো সামাজিক কারণেই মেয়েদের প্রতি অভিভাবকেরা একটু বেশিই খেয়াল বা খোঁজখবর রাখেন। এর ফলে মেয়েদের বিপথে যাওয়ার সুযোগ থাকে কম। এ ছাড়া মেয়েদের যেকোনো ধরনের চাহিদা/অভাব অভিভাবকগণ তাঁদের হাজারো সমস্যা থাকা সত্ত্বেও খুব দ্রুততার সঙ্গে পূরণ করে থাকেন। এটাও মেয়েদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে খুবই সহায়ক হয়।

৪. আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মেয়েরা মাঝেমধ্যেই ইভটিজিংসহ বিভিন্নভাবে ছেলেদের দ্বারা নিপীড়িত/ নির্যাতিত হয়। সব ছেলেরাই যে এসবে জড়িত, এমন নয়। আবার সব মেয়েরাই যে নিপীড়িত/নির্যাতিত হয়, এমন নয়। তবে কোনো মেয়ের সঙ্গে যদি কোথাও এমন ঘটনা ঘটে আর যদি এটা প্রচারিত হয়, তবে সব মেয়েদের মধ্যেই একধরনের জেদ কাজ করে। এই জেদও তাদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে বা এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটা শক্তি বা টনিক হিসেবে কাজ করে।

যা–ই হোক, বিভিন্ন কারণেই মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে, এটাই বাস্তবতা। এই অর্জনকে অবশ্যই ধরে রাখতে হবে। পাশাপাশি ছেলেরাও যাতে পিছিয়ে না পড়ে, সেদিকেও লক্ষ রাখতে হবে। ছেলেদের সমানভাবে প্রতিযোগিতায় রাখার জন্য আমার সুপারিশগুলো নিম্নে তুলে ধরছি—

১. ভালো ফলাফলের জন্য বৃত্তি ও উপবৃত্তি বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ছেলেদের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনামূলক প্রকল্প নেওয়া দরকার, যেগুলো আমাদের ছেলেদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করবে।

২. সম্মানিত শিক্ষক ও অভিভাবকদের ছেলেদের পড়াশোনার ব্যাপারে আরও বেশি যত্নশীল হতে হবে। ছেলেদের পড়াশোনায় অমনোযোগী হওয়ার কারণগুলো চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি অভিভাবকদের তাদের যৌক্তিক চাহিদাগুলো যথাসম্ভব দ্রুততার সঙ্গে পূরণ করতে হবে।

৩. মুঠোফোনের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। বর্তমান সময়ে মুঠোফোনের ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু এর ভালো খারাপ দিকগুলো সম্পর্কে ছেলেদের সঠিক ধারণা দিতে হবে। অকারণে মুঠোফোন ব্যবহারের মাধ্যমে যাতে সময় নষ্ট না করে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। এটা শুধু ছেলেদের ক্ষেত্রে নয়, মেয়েদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

৪. পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু এগুলোয় অতিরিক্ত সময় নষ্ট করার সুযোগ দেওয়া যাবে না। মেয়েদের প্রতি ছেলেদের যাতে কোনো নেতিবাচক ধারণা গড়ে না উঠে, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। মেয়েদেরও যে ছেলেদের মতো পড়াশোনাসহ সব ধরনের অধিকার আছে, এ বিষয়টি সম্পর্কে ছেলেদের পরিষ্কার ধারণা দিতে হবে। পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগিয়ে তুলতে হবে। তাহলেই ছেলেরা ইভটিজিংসহ সব ধরনের নেতিবাচক কার্যকলাপ পরিহার করতে পারবে।

৫. ইদানীং অনেক ছেলে মাদকাসক্ত, কিশোর গ্যাং ইত্যাদিতে জড়িয়ে পড়ছে। এটা নিঃসন্দেহে একটি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বিষয়। রাষ্ট্র, সমাজ, শিক্ষক ও পরিবারের সিনিয়র সদস্যরা সবার এ বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এগুলো প্রতিরোধ করার ব্যবস্থা নিতে হবে।

ছেলেরা ও মেয়েরা সবাই আমাদের সন্তান। ওদের কারও অনগ্রসরতাই আমাদের কাম্য নয়। মেয়েদের অনগ্রসর রেখে যেমন কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন অসম্ভব, তেমনি ছেলেরা পিছিয়ে পড়লেও সমাজের অগ্রগতি ব্যাহত হবে এবং সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট হবে বলে আমার বিশ্বাস। তাই সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা ও সুষম উন্নয়নের স্বার্থে ছেলে ও মেয়ে উভয়ের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে তোলার জন্য এখনই সরকার ও আমাদের সবার সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। কারণ, মানসম্মত শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির জন্য ছেলেমেয়ে, নারী-পুরুষ সবাইকে সম্মিলিতভাবেই কাজ করতে হবে। তবেই দেশের প্রকৃত ও অর্থবহ উন্নয়ন সম্ভব হবে।

*লেখক: মো. মোতাহার হোসেন, সাবেক প্রধান শিক্ষক, মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, মোহনগঞ্জ, নেত্রকোনা

সূত্র: প্রথম আলো

Advertisements
মেয়েশিক্ষা