শিশুদের খেলাধুলায় ফেরাতে পাঠ্যক্রমে নতুন উদ্যোগ সরকারের, আসছে নতুন চার বই

আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন তিনটি পাঠ্যপুস্তক এবং ২০২৮ শিক্ষাবর্ষে আরও একটি বই পাঠ্যক্রমে যুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে সরকার। নতুন কারিকুলামে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সৃজনশীলতা ও আনন্দের মাধ্যমে শেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘খেলায় খেলায় শিখি তথ্যপুস্তক পর্যালোচনা’ বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এসব পরিকল্পনার কথা জানান।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালে চতুর্থ শ্রেণিতে ‘খেলাধুলা’ ও ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ পাঠ্যপুস্তক যুক্ত করা হবে। এর পর ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণিতেও ‘খেলাধুলা’ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের জন্য আগামী সপ্তাহের মধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি ২০২৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য নতুন পাঠ্যপুস্তক ও কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ করবে। নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীদের প্রচলিত পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সৃজনশীলতা ও আনন্দের মাধ্যমে শেখার সুযোগ তৈরি করা হবে।
তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায় থেকেই একটি নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যেই প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় ‘খেলায় খেলায় শিখি’ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। বর্তমানে তাড়াহুড়ো করে চতুর্থ শ্রেণিতে এ কার্যক্রম শুরু করা হলেও ভবিষ্যতে প্রথম শ্রেণি থেকেই এটি চালু করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৮ সাল থেকে কারিকুলামে এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ জন্য নতুন করে চারটি বই পরিমার্জন ও সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন কারিকুলাম কমিটি গঠনের পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু হবে।
শিশুদের খেলাধুলায় আগ্রহী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটানো সম্ভব। পাশাপাশি শিশুদের বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে তাদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা প্রয়োজন।
কর্মশালায় প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীও খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিশুদের জটিল চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়াতে ‘খেলায় খেলায় শিক্ষা’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সম্প্রতি চীন ও জাপান সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব দেশের কারিকুলামে নির্দিষ্ট শ্রেণি ও বিষয়ের সঙ্গে খেলনা ও খেলাকে যুক্ত করা হয়েছে। পাঠ্যবইয়ের বিভিন্ন অধ্যায়েও কোন খেলাধুলা বা খেলনার মাধ্যমে কোন বিষয় শেখানো হবে, তা উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র পে-স্কেল চালুর বিষয়েও সরকার ভাবছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। শিক্ষকদের মর্যাদা ও দায়িত্ব বিবেচনায় তাদের জন্য আলাদা বেতন কাঠামো প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। জাতি গঠনে শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তাদের আলাদা দৃষ্টিভঙ্গিতে মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।
এ ছাড়া রাজধানীর পূর্বাচলে একটি ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়েও সরকার ভাবছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।



