ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা

শিশু ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং গোপনীয়তা সুরক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টি অঙ্গরাজ্যের করা মামলা এবার জুরি ট্রায়ালে গড়াচ্ছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালতে বিচারক ইভন গনজালেস রজার্সের নেতৃত্বে মামলাটির শুনানি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এতে মেটার বিরুদ্ধে ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্যের শিশু সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। বাদীপক্ষ মেটার কাছে এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। পাশাপাশি ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের কার্যক্রম ও নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তনের দাবিও জানানো হয়েছে।
অঙ্গরাজ্যগুলোর অভিযোগ, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের অ্যালগরিদম এবং বিভিন্ন ফিচার এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা শিশু-কিশোরদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখে এবং তাদের মধ্যে আসক্তি তৈরি করতে পারে।
মামলায় কয়েকটি ফিচার পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লাইক সংখ্যা দেখানো বন্ধ করা, ইনফিনিট স্ক্রল সুবিধা বাতিল, ভিডিওর স্বয়ংক্রিয় প্লেব্যাক বন্ধ, অবাস্তব চেহারা তৈরির ফিল্টার সরিয়ে দেওয়া এবং একজন ব্যবহারকারীর একাধিক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ সীমিত করা। এছাড়া ইনস্টাগ্রাম স্টোরিজের মতো নির্দিষ্ট সময় পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যায়—এমন কনটেন্টের ফিচার নিয়েও পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়েছে।
অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের পরিচয় যাচাই বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও রয়েছে। এসব পরিবর্তন কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের বর্তমান পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
তবে শুরু থেকেই অভিযোগগুলো অস্বীকার করে আসছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তরুণ ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা ও সহায়তার জন্য তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আসছে এবং আদালতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবে।
এর আগে নিউ মেক্সিকোর একটি আদালত মেটাকে ৯৪২ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করে। ওই মামলায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমকে জনস্বার্থের জন্য ক্ষতিকর বলেও মন্তব্য করা হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ৩০টি অঙ্গরাজ্যের করা যৌথ মামলায় মেটা পরাজিত হলে শিশু-কিশোরদের জন্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বিভিন্ন ফিচার এবং ব্যবহারের নিয়মে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আসতে পারে।



