‘আমি কী পরিমাণ কষ্ট পেয়েছি, বলে বোঝাতে পারব না’ —ঢাবি শিক্ষক মোনামি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামি ছাত্রদল ও বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজন নেতাকর্মীর আচরণে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। নিজের ব্যক্তিগত ছবি ও একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার পর ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।

সোমবার বিকেলে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে মোনামি বলেন, তার ব্যক্তিগত প্রোফাইলে প্রকাশ করা ছবিটি ছিল সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ছিল না। কিন্তু ছবিটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়েছে, তাতে তিনি গভীরভাবে হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলকে অন্য রাজনৈতিক সংগঠনের তুলনায় বিশেষভাবে ভালো ভাবার কোনো কারণ তিনি দেখেন না। একই সঙ্গে সমাজের একটি অংশ নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল ও কিছু শিক্ষকের প্রতি সহানুভূতিশীল হলেও অন্য শিক্ষকদের ক্ষেত্রে একই মনোভাব দেখায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নিজের সঙ্গে ‘জামায়াত’ তকমা জুড়ে দেওয়ার প্রবণতিতেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই শিক্ষক।
স্ট্যাটাসে মোনামি দাবি করেন, ডাকসু নির্বাচনের পর থেকে ছাত্রদল ও বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের আচরণ তিনি নীরবে সহ্য করে আসছেন। তার ভাষ্য, উদ্ধত আচরণ করে কেউ জীবনে খুব বেশি দূর এগোতে পারে না। পারিবারিক মূল্যবোধের ঘাটতি এবং রাজনীতিকে পেশা হিসেবে দেখার মানসিকতার কারণেই এমন আচরণ তৈরি হয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

পরে ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা মন্তব্য করেন। তার জবাবে মোনামি সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ের একটি ঘটনা তুলে ধরেন।
তিনি জানান, বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এক নেত্রী একসময় সমস্যায় পড়ে প্রক্টর অফিসে এসে সহায়তা চেয়েছিলেন। তখন তার শিক্ষাজীবন যেন বন্ধ না হয়ে যায়, সে জন্য তিনি বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেন এবং বিষয়টির সমাধানেও ভূমিকা রাখেন। পরে ওই শিক্ষার্থীকে পড়াশোনা শেষ করার পরামর্শও দিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
মোনামির দাবি, সেই একই শিক্ষার্থী পরবর্তীতে রাজু ভাস্কর্যের সামনে দাঁড়িয়ে তার বিরুদ্ধেই বক্তব্য দেন। এ ঘটনায় তিনি গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছিলেন উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি কী পরিমাণ কষ্ট পেয়েছি, বলে বোঝাতে পারব না’।



