বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬
বিবিধ

ত্রিপুরায় দুই ছেলে, তাঁদের দেখতে সীমান্ত পেরোতে গিয়ে গ্রেপ্তার সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধা মা

IMG_20260815_220021

বয়স সত্তর পেরিয়েছে। জীবনের এই শেষ প্রান্তে এসে সন্তানদের কাছে যাওয়ার আকুলতাই যেন তাঁকে নিয়ে গিয়েছিল সীমান্তের দিকে। বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের নয়াখালীর বাসিন্দা সোনালক্ষ্মীর দুই ছেলে থাকেন ভারতের ত্রিপুরায়। তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে পাসপোর্ট-ভিসার বৈধ পথ বেছে নেওয়ার সুযোগ ছিল না। তাই অবৈধ পথে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বৃদ্ধা। কিন্তু সন্তানদের কাছে পৌঁছানোর আগেই তাঁকে আটক করে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি)।

ঘটনাটি ঘটেছে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার নোয়াপুর সীমান্তের কাছাকাছি মধ্য কামাল্লা এলাকায় শুক্রবার দিবাগত রাতের দিকে। সোনালক্ষ্মীর সঙ্গে একই সময় সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগে সান্ত্বনা নামের ৪০ বছর বয়সী আরেক নারীও আটক হন। তাঁর বাড়ি বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায়।

বিজিবি পরে দুজনকেই ফুলগাজী থানায় হস্তান্তর করে। পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে মামলা করে। শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের ফেনী জেলা কারাগার-১-এ পাঠানো হয়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সোনালক্ষ্মী জানান, ত্রিপুরায় তাঁর দুই ছেলে থাকেন। তাঁদের সঙ্গে দেখা করতেই তিনি সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করেছিলেন। এমনকি এর আগেও কয়েকবার একইভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ছেলেদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

ঘটনাটির মধ্যে একদিকে রয়েছে সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ, অন্যদিকে উঠে এসেছে দীর্ঘদিন সন্তানদের থেকে দূরে থাকা এক মায়ের আবেগ ও অসহায়তার গল্প। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা যে আইনত অপরাধ, সেই বাস্তবতার মধ্যেও সোনালক্ষ্মীর বক্তব্যে ফুটে উঠেছে সন্তানের সঙ্গে দেখা করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা।

ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন মিয়া বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে দুই নারীই জানিয়েছেন, তাঁদের স্বজনেরা ত্রিপুরায় অবস্থান করছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।

বিজিবি ১০ কুমিল্লা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মীর আলী এজাজ জানান, সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং পুশইন ঠেকাতে বিজিবির তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষার কঠোরতার মধ্যেই মাঝেমধ্যে এমন মানবিক গল্প সামনে আসে। সোনালক্ষ্মীর ক্ষেত্রেও সীমান্তের কাঁটাতারের ওপারে থাকা দুই সন্তানের কাছে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা তাঁকে বৈধতার সীমা অতিক্রমের ঝুঁকি নিতে বাধ্য করেছিল। তবে সেই যাত্রার শেষ হয়েছে সন্তানদের সঙ্গে দেখা করে নয়, কারাগারের পথে।

Advertisements
ছেলেত্রিপুরাবৃদ্ধামাসীমান্ত