বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
স্বাস্থ্য

স্তনে চাকা মানেই ক্যানসার নয়, কোন লক্ষণে সতর্ক হবেন

IMG_3353

স্তনে চাকা বা ব্রেস্ট লাম্প অনুভূত হলে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে স্তনে চাকা দেখা দিলেই সেটি ক্যানসার—এমন নয়। হরমোনের পরিবর্তন, সিস্ট, সংক্রমণসহ বিভিন্ন কারণে স্তনে চাকা হতে পারে। তবে কোনো চাকা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা এর সঙ্গে অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

স্তনে চাকা হওয়ার সম্ভাব্য কারণ

ফাইব্রোএডিনোসিস: সাধারণত ২৫ থেকে ৪০ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়। মাসিকের আগে স্তনে চাকা চাকা অনুভূতি ও ব্যথা হতে পারে। মাসিক শেষ হলে এসব উপসর্গ অনেক সময় কমে যায়।

ফাইব্রোএডিনোমা: ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সে এ ধরনের চাকা বেশি দেখা যায়। এটি সাধারণত হঠাৎ ধরা পড়ে, সহজে নড়াচড়া করা যায় এবং ব্যথা থাকে না। এ কারণে একে অনেক সময় ‘ব্রেস্ট মাউস’ বলা হয়। ছোট ফাইব্রোএডিনোমা নিজে থেকেই ছোট হয়ে যেতে পারে। তবে আকার বড় হলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।

Advertisements

ব্রেস্ট সিস্ট: সিস্ট মূলত তরল বা পানিভর্তি থলির মতো গঠন। যেকোনো বয়সে এটি হতে পারে, তবে অনেকের ক্ষেত্রে মাসিকের আগে সিস্টে অস্বস্তি বা চাকা বেশি অনুভূত হয়। সাধারণত এগুলো মসৃণ ও গোলাকার হয়। প্রয়োজন হলে আলট্রাসনোগ্রামের সাহায্যে সূচের মাধ্যমে তরল বের করে চিকিৎসা করা যায়।

ব্রেস্ট অ্যাবসেস বা সংক্রমণ: বিশেষ করে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েদের মধ্যে স্তনে সংক্রমণ ও অ্যাবসেস বেশি দেখা যেতে পারে। নিপলে ফাটল বা ক্ষত থাকলে ব্যাকটেরিয়া সেখান দিয়ে প্রবেশ করে পুঁজ তৈরি করতে পারে। এ ধরনের চাকা সাধারণত বেশ ব্যথাযুক্ত হয়। চিকিৎসায় ব্যথানাশক, অ্যান্টিবায়োটিক ও গরম সেঁক দেওয়া হতে পারে। অ্যাবসেস বড় হলে পুঁজ বের করার ব্যবস্থা ও নিয়মিত ড্রেসিংয়ের প্রয়োজন হতে পারে।

ফ্যাট নেক্রোসিস: স্তনে আঘাত লাগার পর ফ্যাটি টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চাকা তৈরি করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে এটি নিজে থেকেই কমে যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।

লাইপোমা: এটি চর্বিযুক্ত টিস্যু থেকে তৈরি এক ধরনের টিউমার। সাধারণত ক্ষতিকর নয়। তবে আকার বড় হলে বা অন্য কোনো কারণে প্রয়োজন হলে এটি অপসারণ করা হতে পারে।

ব্রেস্ট ক্যানসার: স্তনে চাকা হওয়ার অন্যতম কারণ স্তন ক্যানসারও হতে পারে। ক্যানসারের চাকা অনেক সময় শক্ত, অনিয়মিত এবং সহজে নড়ানো যায় না। সাধারণত এতে ব্যথা নাও থাকতে পারে। তবে শুধু চাকার ধরন বা অনুভূতি দেখে ক্যানসার নিশ্চিত করা যায় না।

যেসব লক্ষণে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

মাসিক শেষ হওয়ার পরও যদি স্তনের চাকা থেকে যায়, ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে বা ব্যথা ও অন্যান্য অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।

এ ছাড়া স্তনের চামড়ায় কুঁচকে যাওয়া, রোমকূপের ছিদ্র অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে যাওয়া বা ত্বকের রঙে পরিবর্তন দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে। নিপল ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া কিংবা নিপল দিয়ে অস্বাভাবিক তরল বা রস বের হলেও দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

চাকার প্রকৃত কারণ জানতে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী আলট্রাসনোগ্রাম, ম্যামোগ্রাফি, কোর বায়োপসিসসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করতে পারেন।

স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সচেতনতা জরুরি

পরিবারে স্তন ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে নিয়মিত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার বিষয়ে বিশেষভাবে সচেতন থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নিয়মিত স্তন পরীক্ষা করার অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ।

শিশুকে যথাযথভাবে বুকের দুধ পান করানো এবং হরমোনাল পিল দীর্ঘদিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে স্তনে নতুন কোনো চাকা বা পরিবর্তন দেখা দিলে নিজে থেকে কারণ নির্ধারণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

Advertisements
নারীস্বাস্থ্য