বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনরবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬
স্পটলাইট

বইয়ের ঘ্রাণ আর পাতার মায়ায় আজ ‘বিশ্ব বইপ্রেমী দিবস’

বইয়ের ঘ্রাণ আর পাতার মায়ায় আজ ‘বিশ্ব বইপ্রেমী দিবস’

একটি ভালো বই কখনো শুধু কাগজের কিছু পৃষ্ঠা নয়; এটি মানুষের চিন্তার জানালা, জ্ঞানের দরজা এবং সভ্যতার স্মৃতির ভাণ্ডার। একটি বই কখনো মানুষকে ইতিহাসের কাছে নিয়ে যায়, কখনো অজানাকে জানার সুযোগ করে দেয়, আবার কখনো নিজের ভেতরের অন্ধকারকে চিনতে শেখায়।

ডিজিটাল প্রযুক্তির এই সময়ে স্ক্রিনের নীল আলো থেকে কিছুটা দূরে থেকে কাগজের বইয়ের ঘ্রাণে ও পাতা ওল্টানোর আনন্দে ফিরে যাওয়ার আহ্বানের মধ্য দিয়ে রোববার (৯ আগস্ট) বিশ্বজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে ‘বিশ্ব বইপ্রেমী দিবস’।

বই পড়ার অভ্যাসকে উৎসাহিত করা এবং প্রযুক্তির ভিড়ে পাঠাভ্যাস ধরে রাখার লক্ষ্যেই প্রতি বছর দিবসটি পালন করা হয়। বাংলাদেশেও দিবসটি ঘিরে সাহিত্যপ্রেমী ও পাঠকদের মধ্যে দেখা গেছে নানা আয়োজন।

দেশের বিভিন্ন গ্রন্থাগার, প্রকাশনা সংস্থা ও সাহিত্য সংগঠন দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। কোথাও পাঠকদের গ্যাজেট থেকে দূরে রেখে বই পড়ায় উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও চলছে বই বিনিময়, সাহিত্য আড্ডা ও পাঠচক্র।

Advertisements

দিবসটির অন্যতম আকর্ষণ ‘ডিজিটাল ডিটক্স’। পাঠকদের অন্তত কয়েক ঘণ্টার জন্য স্মার্টফোন ও অন্যান্য গ্যাজেট দূরে রেখে পছন্দের বই পড়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিভিন্ন বুক ক্লাব ও ক্যাফেতেও আয়োজন করা হয়েছে বই বিনিময় উৎসবের। পাঠকেরা নিজেদের পড়া প্রিয় বই অন্যদের সঙ্গে বিনিময় করছেন। পাশাপাশি বেশ কিছু প্রকাশনী ও অনলাইন বুকশপ দিবসটি উপলক্ষে বিশেষ মূল্যছাড় ও উপহারের ব্যবস্থা করেছে।

তরুণ পাঠকদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন লাইব্রেরিতে বসেছে বিশেষ সাহিত্য আড্ডা ও কবিতা আবৃত্তির আসর। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে বই পড়ার প্রতি নতুন প্রজন্মের আগ্রহ বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের কারণে বই পড়ার অভ্যাস যেন হারিয়ে না যায়, বিশ্ব বইপ্রেমী দিবসের অন্যতম লক্ষ্য সেটিই। বই শুধু জ্ঞান বাড়ায় না, মানুষের কল্পনাশক্তি ও সহানুভূতিশীলতাও বিকশিত করে।

আজ বিশ্ব বইপ্রেমী দিবসে আমরা একটি ছোট অঙ্গীকার করতে পারি—প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় বই পড়ব। হয়তো শুরু হবে মাত্র ১৫ মিনিট দিয়ে। এরপর ধীরে ধীরে তা ৩০ মিনিট বা এক ঘণ্টায় পৌঁছাতে পারে। মাসে একটি বই, পরে দুই বা তিনটি বই—এভাবেই গড়ে উঠতে পারে একটি সুন্দর পাঠাভ্যাস। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠচক্র, মসজিদ-মাদরাসায় ইসলামী বই পাঠের আসর, পাড়ায় ছোট লাইব্রেরি এবং পরিবারে নিয়মিত বই পড়ার সময়—এসব উদ্যোগ একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Advertisements
বইবিশ্ব বইপ্রেমী দিবস