বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬
স্পটলাইট

আজ মিয়াঁও দিবস- প্রিয় বিড়ালকে বাড়তি ভালোবাসার দিন

আজ মিয়াঁও দিবস- প্রিয় বিড়ালকে বাড়তি ভালোবাসার দিন

পৃথিবীর অন্যতম জনপ্রিয় পোষা প্রাণী বিড়াল। ছোট্ট এই প্রাণীটির আদর-আহ্লাদ, খেলাধুলা আর সঙ্গদানে মানুষকে সহজেই মুগ্ধ করে।

আজ ৮ আগস্ট—বিশ্ব বিড়াল দিবস। যাদের বাড়িতে বিড়াল আছে, তারা হয়তো এমনিতেই তাদের রাজকীয় সম্মান দিয়ে থাকেন। তবে আন্তর্জাতিক বিড়াল দিবস তাদের আরেকটু বেশি আদর করার একটি চমৎকার উপলক্ষ। ২০০২ সালে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রাণিকল্যাণ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার আন্তর্জাতিক বিড়াল দিবসের প্রচলন করে। এর লক্ষ্য ছিল বিশ্বের বিড়ালদের উদযাপন করা, পাশাপাশি বিড়ালের কল্যাণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দায়িত্বশীল পোষা প্রাণী পালনে উৎসাহ দেওয়া। আন্তর্জাতিক বিড়াল দিবস তাদের আরেকটু বেশি আদর করার একটি চমৎকার উপলক্ষ।

প্রিয় বিড়ালকে নিয়ে দিনটি আজ রাঙিয়ে তুলতে পারেন এই সাত উপায়ে।

বাড়িতে তৈরি খাবার দিন
বেশিরভাগ বিড়ালই খাবারে বৈচিত্র্য পছন্দ করে, আর বাড়িতে তৈরি খাবার তাদের খাদ্যতালিকায় নতুন স্বাদ ও গঠন যোগ করার এক দারুণ উপায়। সহজ অথচ সুস্বাদু কিছু রেসিপির মধ্যে রয়েছে স্যামন বিড়াল-খাবার, টুনার বল এবং মুরগির মজার খাবার। আন্তর্জাতিক বিড়াল দিবস উপলক্ষে এগুলো আপনার বিড়ালকে দিতে পারেন। অথবা ক্লিকার প্রশিক্ষণের সময় পুরস্কার হিসেবেও ব্যবহার করতে পারেন। তবে অতিরিক্ত ক্যালোরির কথা মাথায় রেখে নিয়মিত খাবারের পরিমাণ কিছুটা সমন্বয় করুন। আপনার বিড়ালের কোনো খাদ্য অসহিষ্ণুতা, অ্যালার্জি বা শারীরিক সমস্যা থাকলে নির্দিষ্ট উপাদান এড়িয়ে চলুন। সন্দেহ থাকলে আগে পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Advertisements

বিড়ালকে নতুন খেলনা দিন
আপনার বিড়াল খেলতে ভালোবাসলে। নতুন খেলনা দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক বিড়াল দিবসই সেরা উপলক্ষ। লাফানো বা তাড়া করার খেলনা হোক। এমন কিছু বেছে নিন যা আপনার বিড়াল উপভোগ করবে বলে এবং তাদের সঙ্গে খেলার জন্য কিছুটা সময় রাখুন। বাড়িতে বিড়ালকে ব্যস্ত রাখতে একটি ধাঁধা-খেলনা বা অ্যাক্টিভিটি বোর্ডও চমৎকার পছন্দ। চাইলে নিজেই কিছু ডিআইওয়াই বিড়াল-খেলনা তৈরি করে দেখতে পারেন। যেমন-মচমচে খাবার-ভরা বোতল, কিকার খেলনা বা ফিশিং-রড খেলনা।

বিড়ালের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যাচাই
আপনার বিড়ালের যা যা প্রয়োজন তা আছে কি না, যাচাই করার জন্য আন্তর্জাতিক বিড়াল দিবস একটি দারুণ সময়। একাধিক বিড়াল থাকলে নিশ্চিত করুন যে সবার জন্য পর্যাপ্ত জিনিসপত্র আছে। প্রতিটি বিড়ালের জন্য একটি করে লিটার-ট্রে, পানির বাটি ও খাবারের বাটি থাকা উচিত, সঙ্গে একটি অতিরিক্তও। যেমন-দুটি বিড়াল থাকলে আপনার তিনটি করে দরকার হবে। বিড়ালদের ওঠার ও লুকানোর জায়গা, স্ক্র্যাচিং পোস্ট এবং শান্তিতে ঘুমানোর জায়গাও প্রয়োজন। আপনার বিড়াল যথাযথভাবে সুরক্ষিত ও যত্নে আছে কি না তা নিশ্চিত করাই তাদের চাপমুক্ত, সুখী ও সুস্থ রাখার সবচেয়ে ভালো উপায়।

পাখি দেখার জায়গা বানান
কিছু বিড়াল পাখি দেখতে খুব পছন্দ করে। কিন্তু আপনি হয়তো চাইবেন না তারা সরাসরি পাখির কাছাকাছি চলে যাক। বিশেষ করে যদি সেটি ঘরের ভেতরে থাকা বিড়াল হয়। এর বদলে, জানালার পাশে একটি আরামদায়ক চেয়ার বা ক্যাট-ট্রি রাখুন এবং বাইরে, বিড়ালের নাগালের বাইরে একটি পাখির খাবার-পাত্র বসান। নতুন জায়গাটির আশপাশে কিছু খাবার রাখুন বা সামান্য ক্যাটনিপ ছিটিয়ে দিন, যাতে বিড়াল সেখানে ঘুরে দেখতে আগ্রহী হয়। খেয়াল করুন, পাখি দেখলে আপনার বিড়াল কেমন শব্দ করে।

স্মৃতি তৈরি করুন
আপনার ফোনের গ্যালারিতে হয়তো ইতিমধ্যেই অসংখ্য বিড়ালের ছবি আছে। তবু আন্তর্জাতিক বিড়াল দিবসে আরও কিছু ছবি তোলায় ক্ষতি নেই। সুন্দর ও বিড়াল-বান্ধব ছবি তোলার জন্য নিচের পরামর্শগুলো অনুসরণ করতে পারেন। ফ্ল্যাশ ব্যবহার এড়িয়ে চলুন, যাতে বিড়াল চমকে না যায়। জানালার পাশে বা বাগানের প্রাকৃতিক আলো কাজে লাগান।

সুন্দর ছবির জন্য বিড়ালের চোখের উচ্চতা থেকে ছবি তুলুন। নিচু হয়ে বসুন বা মেঝেতে শুয়ে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে বিড়ালকে কাছে ডাকুন।

খেলার সময়টাকে ছবি তোলার সঙ্গে মিলিয়ে নিন। ক্যামেরার লেন্সের ঠিক ওপরে একটি ফিশিং-রড খেলনা ধরে বিড়ালের মনোযোগ আকর্ষণ করে একটি প্রাণবন্ত মুহূর্ত ধরুন।

বিড়ালকে যেকোনো পোশাক পরানো থেকে বিরত থাকুন। এগুলো প্রাণীর কাছে খুবই অস্বস্তিকর মনে হতে পারে এবং গা চাটা বা লিটার-ট্রে ব্যবহারের মতো স্বাভাবিক কাজে বাধা দিতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি শেয়ার করলে #InternationalCatDay ট্যাগটি ব্যবহার করুন এবং অন্যান্য বিড়াল-মালিকরা কী শেয়ার করছেন তা দেখুন। চাইলে পছন্দের ছবিগুলো প্রিন্ট করে বাড়িতেও সাজিয়ে রাখতে পারেন।

স্থানীয় পশু আশ্রয়ে দান বা স্বেচ্ছাসেবা করুন
প্রতিটি বিড়ালের ভাগ্যে আন্তর্জাতিক বিড়াল দিবসে আদর করার মতো কেউ জোটে না। আপনার এলাকার উদ্ধার কেন্দ্রে যোগাযোগ করে দেখুন তাদের স্বেচ্ছাসেবক বা কোনো সাহায্যের প্রয়োজন আছে কি না, এবং প্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্র দিয়ে আসুন। চাইলে অনলাইনেও কোনো দাতব্য প্রতিষ্ঠানে অনুদান পাঠাতে পারেন।

বিড়ালকে গ্রুমিং করান
বিড়ালকে গ্রুম করা একসঙ্গে সময় কাটানোর একটি চমৎকার উপায়। পাশাপাশি এটি ঝরে পড়া লোম দূর করতে, ত্বকে প্রাকৃতিক তেল উৎপাদনে সাহায্য করতে এবং জট পড়া রোধেও সহায়ক। বিড়াল যদি এটি উপভোগ করে, তবে একে নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করার চেষ্টা করুন। গ্রুমিংয়ের সময় বিড়ালের শরীরে ব্যথা, কাটা দাগ বা কোনো ফোলাভাব আছে কি না লক্ষ রাখুন। অস্বাভাবিক কিছু চোখে পড়লে পশুচিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।

Advertisements
বিড়ালভালোবাসা