কারিনা–বিপাশার কথিত ‘চড়কাণ্ড’: পুরোনো বিতর্কে নতুন আলোচনা

বলিউডের অন্যতম আলোচিত বিতর্কগুলোর একটি হলো কারিনা কাপুর খান ও বিপাশা বসুর কথিত ‘চড়কাণ্ড’। ২০০১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত অজনবি সিনেমার শুটিং চলাকালে দুই অভিনেত্রীর মধ্যে তীব্র মনোমালিন্য হয়েছিল বলে দীর্ঘদিন ধরেই বলিউডে নানা গুঞ্জন প্রচলিত। এমনকি সেই সময় বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, কারিনা নাকি বিপাশাকে চড় মেরেছিলেন এবং তাকে ‘কালী বিল্লি’ বলে অপমান করেছিলেন। যদিও এত বছর পরও এই অভিযোগের সত্যতা কখনোই নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি।

সম্প্রতি এই পুরোনো বিতর্কটি আবারও নতুন করে আলোচনায় আসে। জনপ্রিয় উপস্থাপক সিদ্ধার্থ কান্নানের পডকাস্টে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সানডে মিড-ডে-এর সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ বিনোদন সাংবাদিক আস্থা আত্রে। আলোচনার একপর্যায়ে সিদ্ধার্থ প্রশ্ন তোলেন, ২০০০-এর দশকে যদি সত্যিই এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে কেন সেই সময় নেপো কিডদের আচরণ নিয়ে আজকের মতো তীব্র জনসমালোচনা দেখা যায়নি?
প্রশ্নের জবাবে আস্থা আত্রে বলেন, সেই সময়ের বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তখন ইনস্টাগ্রাম, এক্স (টুইটার) কিংবা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অস্তিত্ব ছিল না। ফলে তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন বা বিতর্ক নিয়ে আলোচনা সীমাবদ্ধ থাকত মূলত চলচ্চিত্রবিষয়ক ম্যাগাজিনের গসিপ কলামে।

তিনি বলেন, ‘তখন ইনস্টাগ্রাম ছিল না, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও ছিল না। স্টারডাস্ট, ফিল্মফেয়ারসহ বিভিন্ন চলচ্চিত্র ম্যাগাজিনে শোভা দে-র মতো লেখকেরা তারকাদের নিয়ে গসিপ লিখতেন। সেই গসিপ পড়ার জন্যই মানুষ আগ্রহ নিয়ে ম্যাগাজিন কিনত। এখন সেই সংস্কৃতি আর নেই। বর্তমানে বিভিন্ন অজ্ঞাতনামা ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া পেজ থেকেই মুহূর্তের মধ্যে তারকাদের সম্পর্ক, ব্যক্তিগত জীবন বা বিতর্ক নিয়ে নানা দাবি ছড়িয়ে পড়ে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগে গসিপ জানতে হলে মানুষকে ম্যাগাজিন কিনতে হতো। এখন শুধু মোবাইল স্ক্রল করলেই সবকিছু হাতের নাগালে চলে আসে। তাই কোনো ঘটনা খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।’
দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত গুঞ্জন অনুযায়ী, অজনবি সিনেমার শুটিংয়ের সময় কারিনা কাপুর ও বিপাশা বসুর মধ্যে একটি বিরোধ তৈরি হয়েছিল। সেই বিরোধ ধীরে ধীরে এতটাই তীব্র আকার ধারণ করে যে, একপর্যায়ে কথিত ‘চড়কাণ্ড’-এর জন্ম হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকেই ভিন্ন অবস্থান নিয়েছিলেন দুই অভিনেত্রী।

২০০১ সালে ফিল্মফেয়ারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিপাশা বসু পুরো ঘটনাকে গুরুত্ব দিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, ‘খুব ছোট একটি বিষয়কে অযথা বড় করে দেখানো হয়েছে। আমার সঙ্গে কোনো সমস্যা ছিল না। কারিনার সমস্যা ছিল ডিজাইনারের সঙ্গে। কেন আমাকে সেই ঘটনায় জড়ানো হলো, তা আমি জানি না। পুরো বিষয়টাই ছিল শিশুসুলভ।’
অন্যদিকে, ২০০২ সালে একই সাময়িকীকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কারিনা কাপুরও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘তার নিজের প্রতিভার ওপর যেন আত্মবিশ্বাস নেই। চার পৃষ্ঠার সাক্ষাৎকারের তিন পৃষ্ঠাজুড়েই সে আমার কথাই বলেছে। নিজের কাজ নিয়ে কথা বলল না কেন? অজনবি ছবির সময় বিক্রম ফাডনিসকে ঘিরে যে ঝামেলার কথা বলা হয়, সেটাই যেন তার একমাত্র পরিচয় হয়ে গেছে। আমি তাকে কোনো অপমানজনক নামে ডেকেছি বা চড় মেরেছি—এ ধরনের দাবি সম্পূর্ণ তার কল্পনা।’
যদিও একসময় দুই অভিনেত্রীর সম্পর্ক নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা ছিল, সময়ের সঙ্গে সেই দূরত্ব কমে আসে। ২০০৮ সালে সাইফ আলি খানের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বিপাশা বসুকে ব্যক্তিগতভাবে আমন্ত্রণ জানান কারিনা কাপুর। বলিউডের অনেকের মতে, সেই আমন্ত্রণের মাধ্যমেই প্রায় সাত বছর ধরে চলা দুই অভিনেত্রীর শীতল সম্পর্কের অবসান ঘটে।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত অজনবি সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় বিপাশা বসুর। আব্বাস–মাস্তান পরিচালিত এই ছবিতে তার সহশিল্পী ছিলেন অক্ষয় কুমার, ববি দেওল এবং কারিনা কাপুর খান। ছবিটি মুক্তির পর যেমন বিপাশার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে ওঠে, তেমনি শুটিং-পরবর্তী এই বিতর্কও দীর্ঘদিন ধরে বলিউডের অন্যতম আলোচিত গুঞ্জন হিসেবে টিকে রয়েছে। তবে এত বছর পরও কথিত ‘চড়কাণ্ড’-এর সত্যতা নিয়ে নিশ্চিত কোনো প্রমাণ সামনে আসেনি।



