২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবারবাংলা: ৯ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলাদেশ

রাজনৈতিক সমালোচনায় শালীন ভাষা ব্যবহারের আহ্বান রিজভীর

ae538991bce6189f9dc99d9f98e0782b-6ab50b32c2410

রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকবে, থাকবে তীব্র সমালোচনাও। তবে সেই সমালোচনা যেন ব্যক্তিগত আক্রমণ কিংবা অবমাননাকর ভাষায় না গড়ায়—এমন আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তাঁর মতে, রাজনৈতিক বক্তব্যে কঠোর অবস্থান তুলে ধরা গেলেও ভাষা হওয়া উচিত মার্জিত ও শালীন।


বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন রিজভী। সেখানেই তিনি রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে শালীনতা বজায় রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন

রিজভী বলেন, অতীতে রাজনৈতিক বিরোধীদের উদ্দেশে অবমাননাকর শব্দ ব্যবহারের যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, সেটির পুনরাবৃত্তি হওয়া উচিত নয়। মতের অমিল থাকলেও প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান বজায় রেখে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অধিকার নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন তিনি। সভা-সমাবেশ, মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রে বিরোধী দলের অধিকারকে সম্মান করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।

সাম্প্রতিক লংমার্চের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী জানান, বিএনপির পক্ষ থেকে দলের নেতাকর্মীদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল—কোনো বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে যেন বাধা সৃষ্টি করা না হয়। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও প্রতিপক্ষের কর্মসূচি পালনের অধিকারকে সম্মান করার বিষয়টি তিনি তুলে ধরেন।
আলোচনায় দেশের পররাষ্ট্রনীতির বিষয়টিও উঠে আসে। রিজভীর বক্তব্য, বাংলাদেশকে কোনো নির্দিষ্ট দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হওয়া কিংবা অন্য কোনো রাষ্ট্রের ‘পেছনের উঠান’ হিসেবে পরিণত হওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। দেশের পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের স্বার্থ বিবেচনায় বাংলাদেশকেই নিতে হবে।

গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ন্যূনতম ঐকমত্য থাকা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার পাশাপাশি পারস্পরিক সম্মান, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে।

Advertisements