মায়ের সঞ্চয় ভেঙে চলছে চিকিৎসা, শিল্পী শোয়েবের পাওনা ৫০ লাখ টাকা কার কাছে?

দীর্ঘদিন ধরে সংগীত, বিজ্ঞাপনচিত্র, ওয়েব সিরিজ ও চলচ্চিত্রের বিভিন্ন অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রকল্পে কাজ করে আসছেন ব্যান্ড ‘মেঘদল’-এর গিটারিস্ট ও শব্দপ্রকৌশলী রাশিদ শরীফ শোয়েব। তবে কাজের পারিশ্রমিক সময়মতো না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন এই শিল্পী। তাঁর দাবি, ২০১২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে তাঁর পাওনা টাকার পরিমাণ ৫০ লাখের কম নয়।
বর্তমানে ডেঙ্গু, উচ্চমাত্রার ডায়াবেটিসসহ নানা শারীরিক জটিলতায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন শোয়েব। চিকিৎসার খরচ চালাতে মায়ের জমানো টাকা ও সঞ্চয়পত্র ভাঙতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক পোস্টে শোয়েব জানান, সাত দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তিনি। এর আগে ২০২৪ সালেও হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল তাঁকে। বর্তমান শারীরিক অবস্থাকে ‘ভয়ানক’ উল্লেখ করে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন এই শিল্পী।
পরে নিজের দীর্ঘ পেশাজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে পারিশ্রমিক বকেয়া থাকার বিষয়টি সামনে আনেন শোয়েব। তিনি জানান, ২০১১ সালে ঢাকার নিকেতনে সংগীতশিল্পী ও শব্দপ্রকৌশলী হিসেবে কাজ শুরু করেন। ছোট একটি স্টুডিওতে কাজ করতে গিয়ে সময়মতো কাজ শেষ করা ও আন্তরিকতার কারণে ধীরে ধীরে তাঁর কাজের পরিধি বাড়তে থাকে।
পরবর্তী সময়ে টেলিভিশন ও অনলাইন বিজ্ঞাপনচিত্র, ওয়েব সিরিজ এবং চলচ্চিত্রের কাজও করতে থাকেন তিনি। ‘হাওয়া’, ‘স্বপ্নজাল’ ও ‘রইদ’-এর মতো সিনেমায় সংগীতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন শোয়েব। তবে পরিচালকদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং কাজের প্রতি আগ্রহের কারণে অনেক সময় পারিশ্রমিক আদায়ের বিষয়ে তাগাদা দেননি বলে জানান তিনি।
শোয়েবের ভাষ্য, বছরের পর বছর এভাবে বিভিন্ন কাজের পারিশ্রমিক জমতে জমতে বড় অঙ্কের বকেয়া তৈরি হয়েছে। তাঁর হিসাবে, ২০১২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তাঁর পাওনা ৫০ লাখ টাকার কম নয়।
বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে শোয়েব বলেন, নিজের স্টুডিও আধুনিকায়নের খরচের পাশাপাশি এখন চিকিৎসার ব্যয়ও মায়ের সঞ্চয় ভেঙে চালাতে হচ্ছে। দীর্ঘদিনের পাওনা অর্থ পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্টদের এক মাসের সময় দিয়েছেন তিনি।
কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ না করে শোয়েব পুরোনো হিসাব ও নথি বের করে বকেয়া পারিশ্রমিকের হিসাব হালনাগাদ করার আহ্বান জানিয়েছেন। অক্টোবরের শুরুতে তাঁর স্টুডিওতে গিয়ে চা খেয়ে সম্মানের সঙ্গে পাওনা টাকা পরিশোধ করে যাওয়ার অনুরোধও করেছেন তিনি।
তবে তাঁর এই আহ্বানের পরও সংশ্লিষ্টরা সাড়া না দিলে ভবিষ্যতে আরও কঠোরভাবে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন শোয়েব। তাঁর পোস্টে কার কাছে কত টাকা পাওনা কিংবা কোন কাজের বিপরীতে কত অর্থ বকেয়া রয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো হিসাব বা নাম উল্লেখ করা হয়নি।



