বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬
জীবনযাপন

ত্বকেরও দরকার ফাস্টিং বা উপবাস

images

ত্বকের যত্নে টোনার, সেরাম, রেটিনল, ময়েশ্চারাইজার ও সানস্ক্রিনসহ নানা প্রসাধনী ব্যবহার এখন অনেকের দৈনন্দিন অভ্যাস। তবে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রয়োজনের অতিরিক্ত স্কিনকেয়ার পণ্য ব্যবহারে ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষাব্যবস্থা দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এ কারণেই বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ‘স্কিন ফাস্টিং’ বা ত্বকের উপবাসের ধারণা।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অধিকাংশ প্রসাধনী ব্যবহার বন্ধ রেখে ত্বককে নিজস্বভাবে পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেওয়াই স্কিন ফাস্টিংয়ের মূল উদ্দেশ্য। এতে ত্বক কৃত্রিম উপাদানের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্বাভাবিক তেল ও আর্দ্রতা উৎপাদনের সক্ষমতা ফিরে পেতে পারে।

জাপানি স্কিনকেয়ার বিশেষজ্ঞ ও ‘মিরাই ক্লিনিক্যাল’-এর প্রতিষ্ঠাতা কোকো হায়াশি জানান, ত্বকের ওপরের ‘হাইড্রো-লিপিড’ স্তর প্রাকৃতিকভাবে আর্দ্রতা ধরে রাখা এবং বাইরের ধুলাবালি ও জীবাণু থেকে সুরক্ষা দেওয়ার কাজ করে। কিন্তু নিয়মিত কড়া অ্যাসিড ও বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানযুক্ত প্রসাধনী ব্যবহারে এই সুরক্ষাবলয় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণাতেও দেখা গেছে, অতিরিক্ত কেমিক্যালভিত্তিক স্কিনকেয়ার পণ্য ব্যবহারের ফলে ত্বকে প্রদাহ, অতিসংবেদনশীলতা, লালচে ভাব, শুষ্কতা এবং ব্রণের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

Advertisements

স্কিন ফাস্টিং শুরু করতে বিশেষজ্ঞরা ধীরে ধীরে প্রসাধনী কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন। প্রথমে রেটিনল ও বিভিন্ন অ্যাসিডভিত্তিক সেরাম বন্ধ করে মৃদু ফেসওয়াশ ও ময়েশ্চারাইজারে সীমাবদ্ধ থাকার কথা বলা হয়েছে। উপবাসের মূল সময়ে রাতে কোনো সেরাম বা নাইট ক্রিম ব্যবহার না করে শুধু পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার রাখা যেতে পারে। তবে বাইরে বের হলে সানস্ক্রিন ব্যবহার অব্যাহত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্কিন ফাস্টিংয়ের প্রথম কয়েক দিনে ত্বক কিছুটা শুষ্ক বা টানটান লাগতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া এবং ত্বক নিজের স্বাভাবিক তেল উৎপাদন পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে—এরই লক্ষণ। সাধারণত এক সপ্তাহের মধ্যে এ অবস্থা স্বাভাবিক হয়ে আসে।

এ সময় পর্যাপ্ত পানি পান এবং শাকসবজি ও ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে ত্বক ভেতর থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও আর্দ্রতা পায়।

তবে সবার জন্য স্কিন ফাস্টিং উপযোগী নয়। যাদের একজিমা, সোরিয়াসিস, রোজাসিয়াসহ দীর্ঘস্থায়ী চর্মরোগ রয়েছে বা চিকিৎসকের পরামর্শে ব্রণের ওষুধ বা মেডিকেটেড ক্রিম ব্যবহার করছেন, তারা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া এই পদ্ধতি অনুসরণ করবেন না।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বকের সুস্থতা নিশ্চিত করতে সবসময় বেশি প্রসাধনী প্রয়োজন হয় না। বরং প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিত পণ্য ব্যবহার এবং ত্বককে মাঝে মাঝে বিশ্রাম দেওয়াও ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষাব্যবস্থা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।

Advertisements
ত্বকস্বাস্থ্য