১৪ শিক্ষার্থী দিলেন ভুল প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে একটি এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় একটি কেন্দ্রের ১৪ জন পরীক্ষার্থী ২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৫ সালের নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্র সচিবকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কয়েকজন শিক্ষককেও শোকজ করা হয়েছে।

জানা গেছে, ভূঞাপুরের ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজে এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এই কেন্দ্রে লোকমান ফকির মহিলা ডিগ্রি কলেজ, শহীদ জিয়া মহিলা ডিগ্রি কলেজ এবং নিকরাইলের শমসের ফকির ডিগ্রি কলেজের মোট ১৪ জন শিক্ষার্থী গত শনিবার (১ আগস্ট) মনোবিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নেন। তবে পরীক্ষার সময় দায়িত্বরত শিক্ষকরা ভুলবশত ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে ২০২৫ সালের নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নপত্র শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেন। পরীক্ষার্থীরাও বিষয়টি বুঝতে না পেরে সেই প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা সম্পন্ন করেন।
পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরে শিক্ষার্থীরা অন্যদের সঙ্গে প্রশ্নপত্র মিলিয়ে দেখার সময় বুঝতে পারেন, তারা চলতি বছরের নয়, বরং আগের বছরের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছেন। বিষয়টি জানতে পেরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। পরে তারা তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে নিজ নিজ কলেজ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। এরপর সংশ্লিষ্ট কলেজগুলো ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানানো হয়, শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির সমাধান করা হবে।
অভিযোগ উঠেছে, এত বড় একটি ভুল হওয়ার পরও কেন্দ্র সচিব প্রফেসর মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন খান বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তা কিংবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেননি। ফলে ঘটনাটি প্রশাসনের নজরে আসতে দেরি হয়।
পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানান, পরীক্ষা শেষে বাসায় গিয়ে প্রশ্নপত্র মিলিয়ে দেখার পরই তারা বুঝতে পারেন যে প্রশ্নপত্রটি ২০২৫ সালের। দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের অসাবধানতা ও গাফিলতির কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে বলে তারা অভিযোগ করেন। এ ঘটনার কারণে ১৪ জন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ও পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। তাদের প্রশ্ন, এই ভুলের দায় শিক্ষার্থীরা কেন বহন করবে এবং শেষ পর্যন্ত বিষয়টির ন্যায়সঙ্গত সমাধান হবে কি না।
লোকমান ফকির মহিলা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আ. আউয়াল আল হাবিব বলেন, ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি তারা দ্রুতই ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।
এ বিষয়ে ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব প্রফেসর মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন খান বলেন, ঘটনার তদন্তে দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়ায় তিনজন শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা আরও দুই শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে তাদের স্থলে নতুন দুইজন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী ওই ১৪ শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্রের ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা হবে, যাতে তারা কোনো ধরনের ক্ষতির মুখে না পড়েন।
অন্যদিকে, ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুব হাসান বলেন, ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি কেন্দ্র সচিব প্রশাসনকে জানাননি। পরে রাতের দিকে অন্য এক শিক্ষকের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বোর্ড থেকে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কেন্দ্র সচিবকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) করা হয়েছে।



