বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬
জীবনযাপন

ইনস্টাগ্রাম – টিকটক কি সত্যিই মন খারাপের কারণ?

images (14)

রাতের ঘুমের আগে ভাবলেন, “আর মাত্র পাঁচ মিনিট”। তারপর ইনস্টাগ্রাম বা টিকটকে একের পর এক ভিডিও দেখতে দেখতে কখন যে এক ঘণ্টা কেটে গেল, বুঝতেই পারলেন না। ফোনটা নামিয়ে রাখার পর হঠাৎ মনে হলো, অন্যদের জীবন যেন অনেক বেশি সুন্দর, আর নিজের জীবনটা কেমন যেন ফিকে। এমন অনুভূতি যদি আপনারও হয়ে থাকে, তাহলে আপনি একা নন।
ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট ২০২৬–এ প্রকাশিত এক বিশ্লেষণ বলছে, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকের মতো অ্যালগরিদমনির্ভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অতিরিক্ত ব্যবহার করলে মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং জীবনের প্রতি অসন্তুষ্টি বাড়তে পারে।

কী বলছে গবেষণা?

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েলবিয়িং রিসার্চ সেন্টারের গবেষণায় দেখা গেছে, সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব এক রকম নয়। হোয়াটসঅ্যাপ বা ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্ম, যেখানে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ বেশি, সেগুলো তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ও এক্সের মতো প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীরা দীর্ঘ সময় ধরে অ্যালগরিদমের বেছে দেওয়া ছবি ও ভিডিও দেখে থাকেন। সেখানে অন্যের সাজানো জীবন, বিলাসিতা ও সাফল্যের গল্প বারবার চোখে পড়ায় নিজের জীবনের সঙ্গে তুলনা করার প্রবণতা তৈরি হয়, যা ধীরে ধীরে মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

Advertisements

কতক্ষণ ব্যবহার নিরাপদ?

গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিদিন এক ঘণ্টা বা তার কম সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা অনেক ক্ষেত্রে জীবনের প্রতি বেশি সন্তুষ্ট থাকেন। তবে ব্যবহার যখন প্রতিদিন গড়ে আড়াই ঘণ্টার কাছাকাছি পৌঁছে যায়, তখন নেতিবাচক প্রভাব বাড়তে শুরু করে। গবেষকদের ভাষায়, এখানে কাজ করে “গোল্ডিলকস নীতি”—অর্থাৎ খুব বেশি নয়, আবার একেবারে শূন্যও নয়; মাঝামাঝি ব্যবহারই সবচেয়ে উপকারী।

সব দায় কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের?

বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, শুধু ইনস্টাগ্রাম বা টিকটককে দায়ী করলে পুরো চিত্র বোঝা যাবে না। তরুণদের মানসিক সুস্থতার ওপর জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, চাকরির অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক চাপ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের মতো বিষয়গুলোরও বড় প্রভাব রয়েছে।

কী করলে উপকার পাবেন?

মানসিক সুস্থতার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং ব্যবহারটা হোক সচেতন।
নির্দিষ্ট সময়ের বেশি অকারণে স্ক্রল করবেন না।


-পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগকে গুরুত্ব দিন।
-ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।
-অন্যের সাজানো জীবনের সঙ্গে নিজের বাস্তব জীবন তুলনা করবেন না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিজে শত্রু নয়। তবে আপনি যদি অ্যালগরিদমের অন্তহীন স্ক্রলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হারিয়ে যান, সেটিই ধীরে ধীরে আপনার মানসিক সুস্থতায় প্রভাব ফেলতে পারে। প্রযুক্তি ব্যবহার করুন, তবে প্রযুক্তিকে যেন আপনার সময় ও মন নিয়ন্ত্রণ করতে না দেওয়া হয়।

Advertisements
ইনস্টাগ্রামঘুমটিকটকস্বাস্থ্য