বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬
শিক্ষা

বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অপরাহ উইনফ্রের মেয়েদের স্কুল

বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অপরাহ উইনফ্রের মেয়েদের স্কুল

যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতিমান টক শো উপস্থাপক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব অপরাহ উইনফ্রে ঘোষণা দিয়েছেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রায় দুই দশক আগে প্রতিষ্ঠিত তার মেয়েদের আবাসিক বিদ্যালয় আগামী বছর বন্ধ হয়ে যাবে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ শেষ হওয়ার পর জোহানেসবার্গের কাছে অবস্থিত ‘অপরাহ উইনফ্রে লিডারশিপ একাডেমি ফর গার্লস’ প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় শিক্ষা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এটি শুরু থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া চুক্তির অংশ ছিল বলে জানা গেছে।

বিবিসি জানিয়েছে, বিদ্যালয়টি বন্ধ হলেও যেসব শিক্ষার্থী তখনো স্নাতক সম্পন্ন করতে পারবে না, তাদের দেশের অন্য স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণ বৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি, সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মেধাবী মেয়েদের জন্য বৃত্তিভিত্তিক শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচিও চালু থাকবে।

২০০২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার সঙ্গে সাক্ষাতের পর অনুপ্রাণিত হয়ে অপরাহ এই শিক্ষা প্রকল্প হাতে নেন। প্রায় ৪ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিত বিদ্যালয়টি ২০০৭ সালে যাত্রা শুরু করে। এরপর থেকে এক হাজারেরও বেশি ছাত্রী এখান থেকে স্নাতক হয়েছেন। তাদের অনেকেই বর্তমানে চিকিৎসক, আইনজীবী, প্রকৌশলী, শিল্পী, উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী হিসেবে কাজ করছেন।

বিদ্যালয়টি বন্ধ হওয়ার ঘোষণার পর সামাজিক মাধ্যমে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে এর কারণ বলে দাবি করেন। তবে ‘অপরাহ উইনফ্রে লিডারশিপ একাডেমি ফাউন্ডেশন’ এসব অভিযোগ নাকচ করে জানিয়েছে, এটি কোনো সংকটের কারণে নয়; বরং আরও বেশি সংখ্যক মেধাবী মেয়ের কাছে শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দেওয়ার নতুন কৌশল।

Advertisements

এই বিষয়ে ৭২ বছর বয়সী অপরাহ উইনফ্রে এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমার স্বপ্ন শুধু একটি স্কুল গড়ে তোলা ছিল না; বরং স্বপ্ন ছিল তরুণীদের অসীম সম্ভাবনায় বিনিয়োগ করা। একটি ক্যাম্পাসের সমাপ্তির মধ্য দিয়ে সেই লক্ষ্য শেষ হচ্ছে না। শিক্ষার মাধ্যমে যেসব মেয়ের ভবিষ্যৎ বদলে যেতে পারে, তাদের প্রত্যেকের মধ্যেই এই যাত্রা অব্যাহত থাকবে।’

বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ২৮১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। স্কুলটি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের পর ক্যাম্পাসটি কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। তবে গাউতেং প্রদেশের শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহ্য ও প্রতিষ্ঠার মূল আদর্শ অক্ষুণ্ন রেখে এটি জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করা হবে।

Advertisements
দক্ষিণ আফ্রিকাস্কুল