বিশ্বকাপ জয়ের পর প্রেমিকার ভালোবাসায় ভাসলেন লামিন ইয়ামাল

স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের উচ্ছ্বাসে ভাসছেন তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় অর্জনের পর তাকে আবেগঘন শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তার প্রেমিকা ইনেস গার্সিয়া সান্তোস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তার বার্তা ইতোমধ্যেই ভক্তদের দৃষ্টি কেড়েছে।

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। ঐতিহাসিক এই জয়ের পর মাঠে উদযাপনের সময় ইয়ামালের পাশে ছিলেন তার তিন বছর বয়সী ছোট ভাই কেইন এবং প্রেমিকা ইনেস গার্সিয়া সান্তোস।
পরে নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শিরোপা হাতে ইয়ামালের একটি ছবি শেয়ার করে ইনেস লেখেন, ‘তুমি এটি সম্পন্ন করেছ। অভিনন্দন, আমার ভালোবাসা। তুমি এখন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।’ আবেগময় এই বার্তা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্পেনের সমর্থকদের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

স্প্যানিশ ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে পরিচিত ইনেস গার্সিয়া পুরো বিশ্বকাপজুড়েই ছিলেন আলোচনায়। স্পেনের প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই গ্যালারিতে উপস্থিত থেকে ইয়ামালকে সমর্থন করতে দেখা গেছে তাকে। বেশির ভাগ ম্যাচেই তিনি ইয়ামালের জার্সি পরে স্ট্যান্ডে বসে দলকে উৎসাহ দিয়েছেন।
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই এই জুটির সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। চলতি বছরের শুরুতে গ্রিসে একসঙ্গে ছুটি কাটানোর কয়েকটি ছবি প্রকাশ্যে আসার পর তাদের প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। পরে মে মাসে বার্সেলোনার একটি নৈশভোজে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে একসঙ্গে দেখা যায় ইয়ামাল ও ইনেসকে। এরপর থেকেই তাদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ইনেস গার্সিয়া জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমেই প্রথম পরিচয় হয়েছিল তাদের। তিনি বলেন, ‘মানুষ হয়তো আমাদের পরিচয়ের পেছনে রূপকথার মতো কোনো গল্প শুনতে চাইবে। কিন্তু সত্যি হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই আমাদের পরিচয়। মানুষ যতটা ভাবছে, তার চেয়েও অনেক আগে থেকেই আমরা একে অপরকে চিনতাম। দেখা হওয়ার আগেই দীর্ঘদিন শুধু কথা বলেছি।’
বিশ্বকাপ ফাইনালের আগেও ইয়ামালকে বিশেষভাবে উৎসাহ দিয়েছিলেন ইনেস। জাস্টিন বিবারের হাফটাইম শো–সংক্রান্ত একটি পোস্ট শেয়ার করে ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে তিনি স্প্যানিশ ভাষায় লিখেছিলেন, ‘ফাইনালে পৌঁছাতে যা যা করা লাগে, সব করো। শুনছ? যা লাগে, তাই করো।’ তার এই বার্তাও ভক্তদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছিল।
চোট কাটিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে নামা ইয়ামাল টুর্নামেন্টের শুরুতে কিছুটা সময় নিলেও ধীরে ধীরে স্পেনের আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসায় পরিণত হন। পুরো আসরজুড়ে তিনি একটি গোল করার পাশাপাশি একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
২০২৪ সালে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর এবার বিশ্বকাপও জিতলেন বার্সেলোনা ও স্পেনের এই তরুণ ফুটবলার। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই জাতীয় দলের হয়ে দ্বিতীয় বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা জিতে নিজের উজ্জ্বল ক্যারিয়ারে যোগ করলেন আরেকটি গৌরবময় অধ্যায়।



