১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | শুক্রবারবাংলা: ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
বিবিধ

ঘনঘটা ২: বর্ষা উদযাপনে সংস্কৃতি, মানবতায় সংহতি

WhatsApp Image 2026-07-17 at 4.56.58 PM

বর্ষা এলেই নগরজীবনে অনেকের মনে ভেসে ওঠে জলাবদ্ধতা, দীর্ঘ যানজট আর নিত্যদিনের ভোগান্তির ছবি। কিন্তু সেই পরিচিত ধারণার বাইরে গিয়ে বর্ষার নান্দনিকতা, সংস্কৃতি ও মানবিক দায়বদ্ধতাকে একসঙ্গে তুলে ধরল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় আয়োজিত নৃত্যানুষ্ঠান ‘ঘনঘটা ২’। আজ শুক্রবার সকাল ১১টায় বকুলতলায় শুরু হয় ৯০ মিনিটের এ বিশেষ অনুষ্ঠান। এতে অংশ নেন ৩ থেকে ৭০ বছর বয়সী নৃত্যশিল্পীরা।

ঋতুর সৌন্দর্যকে উদযাপনের পাশাপাশি সাম্প্রতিক পার্বত্য চট্টগ্রামের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বানও ছিল এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বন্যাদুর্গতদের জন্য তহবিল সংগ্রহ করা হয়, যেখানে দর্শনার্থীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।

একুশে পদকপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী ও কোরিওগ্রাফার অর্থি আহমেদের উদ্যোগে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল প্রায় চার মাস আগে। তবে সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতির পর আয়োজকেরা অনুষ্ঠানের সঙ্গে মানবিক সহায়তার বিষয়টিও যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন।
অর্থি আহমেদ বলেন, শিল্পচর্চা কখনোই সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। একজন শিল্পীর যেমন সৌন্দর্য সৃষ্টি করার দায়িত্ব আছে, তেমনি দুর্যোগের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোরও দায় রয়েছে। তাই বর্ষাকে উদযাপনের পাশাপাশি বন্যাকবলিত মানুষের জন্য সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নগরজীবনে বর্ষা এখন অনেকের কাছে কেবল জলাবদ্ধতা ও যানজটের প্রতীক হয়ে উঠেছে। অথচ বাংলার ইতিহাস, সাহিত্য, সংগীত ও নৃত্যে বর্ষা বরাবরই উৎসব, প্রেম, প্রকৃতি ও জীবনের এক অনন্য অনুষঙ্গ। সেই হারিয়ে যেতে বসা সাংস্কৃতিক অনুভূতিকেই নতুন করে দর্শকদের সামনে তুলে ধরাই ছিল ‘ঘনঘটা ২’-এর মূল ভাবনা।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অর্থি আহমেদ ড্যান্স একাডেমির সদস্যরা ব্যক্তিগতভাবেও বন্যাদুর্গতদের জন্য অনুদান দেবেন। পাশাপাশি অনুষ্ঠানের ভেন্যুতে জাগো ফাউন্ডেশনের দুটি বুথ স্থাপন করা হয়, যেখানে উপস্থিত দর্শনার্থীরা স্বেচ্ছায় অনুদান প্রদান করেন।

সংস্কৃতির সৌন্দর্য আর মানবিক দায়িত্ব—দুইয়ের সমন্বয়ে ‘ঘনঘটা ২’ শুধু একটি নৃত্যানুষ্ঠানই নয়, বরং বর্ষাকে নতুন দৃষ্টিতে দেখার এবং দুর্যোগের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক অনুপ্রেরণামূলক উদ্যোগ হয়ে উঠেছে।

Advertisements