বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬
জীবনযাপন

উচ্চতার ভয় কি স্বাভাবিক, নাকি ফোবিয়া?

IMG_2155

পাহাড়, উঁচু ভবন কিংবা ঝুলন্ত সেতু—উঁচু জায়গায় উঠতে গিয়ে অনেকেই অস্বস্তি অনুভব করেন। তবে এই ভয় যদি অস্বাভাবিক মাত্রায় পৌঁছে যায় এবং স্বাভাবিক জীবন বা ভ্রমণে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে সেটি হতে পারে হাইট ফোবিয়া বা অ্যাক্রোফোবিয়া।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় অ্যাক্রোফোবিয়া এমন একটি মানসিক অবস্থা, যেখানে উঁচু স্থানে অবস্থান করলে বা এমন জায়গা দেখলেই তীব্র ভয় ও উদ্বেগ তৈরি হয়। এটি সাধারণ সতর্কতা থেকে আলাদা। নিরাপদ অবস্থানেও আক্রান্ত ব্যক্তি অযৌক্তিক আতঙ্কে ভুগতে পারেন। পাহাড়ের চূড়া, খাড়া ঢাল, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, ঝুলন্ত সেতু এমনকি বিমানে ভ্রমণের সময়ও এ ধরনের অনুভূতি দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাইট ফোবিয়ার লক্ষণ ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। কারও মাথা ঘোরে, বুক ধড়ফড় করে, হাত-পা কাঁপে বা শরীর ঘেমে যায়। অনেকের মনে হয়, তারা ভারসাম্য হারিয়ে নিচে পড়ে যাবেন। গুরুতর ক্ষেত্রে প্যানিক অ্যাটাকও হতে পারে, যা ভ্রমণের আনন্দকে মুহূর্তেই উদ্বেগে পরিণত করে।

তবে পাহাড়ে গেলেই যে হাইট ফোবিয়া হবে, তা নয়। প্রথমবার উঁচু স্থানে গিয়ে সাময়িক ভয় বা অস্বস্তি অনুভব করা স্বাভাবিক। কিন্তু এই ভয় যদি অতিরিক্ত হয় এবং নিয়মিত কাজকর্ম বা ভ্রমণে বাধা দেয়, তখন সেটিকে ফোবিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

Advertisements

উচ্চতাভীতি থাকলে ভ্রমণের আগে গন্তব্য ও পাহাড়ি পথ সম্পর্কে ধারণা নেওয়া, খুব উঁচু বা ঝুঁকিপূর্ণ স্থান এড়িয়ে চলা এবং অভিজ্ঞ গাইডের সঙ্গে থাকা উপকারী। দলবদ্ধভাবে চলাফেরা আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। পাশাপাশি খাড়া প্রান্তের খুব কাছে না যাওয়া, ছবি তুলতে গিয়ে ঝুঁকি না নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। গভীর ও ধীর শ্বাস নেওয়ার অভ্যাসও উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

বর্ষাকালে পাহাড় ভ্রমণে সতর্কতার প্রয়োজন আরও বেশি। বৃষ্টির কারণে পথ পিচ্ছিল হয়ে যায় এবং ভূমিধসের ঝুঁকিও বাড়ে। তাই যাত্রার আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে নেওয়া, স্থানীয় প্রশাসনের সতর্কবার্তা অনুসরণ করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এ ছাড়া ভালো গ্রিপযুক্ত জুতা, রেইনকোট, প্রাথমিক চিকিৎসাসামগ্রী ও পর্যাপ্ত পানীয় জল সঙ্গে রাখাও জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় উচ্চতার ভয় এবং প্রকৃত পরিবেশগত ঝুঁকি একে অপরকে আরও বাড়িয়ে তোলে। তাই নিজের মানসিক অবস্থার পাশাপাশি ভ্রমণের পরিবেশ সম্পর্কেও সচেতন থাকলে পাহাড় ভ্রমণ নিরাপদ ও আনন্দদায়ক হতে পারে।

Advertisements
উচ্চতাফোবিয়া