‘স্ত্রীর মৃত্যুতে শোক করব, নাকি মামলার লড়াই চালাব- বুঝতে পারছি না’: আদালতে জাহের আলভী

স্ত্রী ইকরা আত্মহত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় রিমান্ড শুনানির সময় আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন অভিনেতা মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া, যিনি জাহের আলভী নামে পরিচিত। আদালতের উদ্দেশে তিনি বলেন, স্ত্রীর মৃত্যুর শোক পালন করবেন নাকি মামলার আইনি প্রক্রিয়া সামলাবেন, সেটিই এখন তার কাছে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালতে তাকে হাজির করা হলে রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে আলভী বলেন, তিনি অভিনয়ে ফেরার জন্য জামিন চাননি; বরং মা হারানো সন্তানকে মানসিকভাবে সামলানোই এখন তার প্রধান দায়িত্ব।

দুপুরের দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে আনা হয় আলভীকে। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে, আলভীর পরকীয়ার সম্পর্ক এবং দীর্ঘদিনের মানসিক নির্যাতনের কারণেই ইকরা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ আদালতে বলেন, ইকরা জানতে পেরেছিলেন যে তার স্বামী অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় তাকে অপমানজনক ও হতাশাজনক কথা বলা হতো। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্য নারীর ছবি পোস্ট করেও তাকে উসকানি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আইনজীবী আরও বলেন, আলভীর সহশিল্পী তিথির একটি ফেসবুক পোস্ট, যেখানে মেহেদি দিয়ে আলভীর নাম লেখা ছিল, সেটিও ইকরার মানসিক কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া বিবাহবার্ষিকীর সময় আলভীর অন্য এক নারীর সঙ্গে নেপাল ভ্রমণের ঘটনাও তাকে গভীরভাবে আঘাত করেছিল বলে দাবি রাষ্ট্রপক্ষের। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুবায়েত ইসলাম রিমান্ডের বিরোধিতা করে বলেন, মামলাটি যেন গণমাধ্যমের প্রভাবমুক্ত থেকে বিচারিক প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হয়। তিনি উল্লেখ করেন, আলভী দেশের বাইরে থেকে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন এবং আইনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছেন। এ সময় বিচারক মন্তব্য করেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশেই তাকে আত্মসমর্পণ করতে হয়েছে।

শুনানিতে আসামিপক্ষ ইকরার একটি হলফনামার বিষয়ও তুলে ধরে, যেখানে পরিবারের চাপে তাকে আরেকটি বিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে রিমান্ডের পরিবর্তে কারাগারের ভেতরে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদনও জানানো হয়।
আদালতের অনুমতি নিয়ে নিজের বক্তব্যে আলভী বলেন, তার ও ইকরার দাম্পত্য সম্পর্ক স্বাভাবিক ছিল এবং আত্মহত্যার মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। সংসারে ছোটখাটো মনোমালিন্য থাকলেও তা স্বাভাবিক বিষয় বলে দাবি করেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মেহেদি-সংক্রান্ত ছবিকে ‘এআই-নির্মিত’ বলে উল্লেখ করে আলভী বলেন, এটি তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অংশ। প্রকৃত ছবির প্রমাণ তার আইনজীবীর কাছে রয়েছে বলেও জানান তিনি। নেপাল সফর নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাবে আলভী বলেন, তিনি নাটকের শুটিংয়ের কাজে প্রযোজনা দলের সঙ্গে সেখানে গিয়েছিলেন। তিথি ছাড়াও ইউনিটের অন্যান্য সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।
দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আলভীর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। উল্লেখ্য, গত ২১ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আলভীকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, ইকরার প্রতি অপমানজনক আচরণ, মানসিক নির্যাতন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। মামলার রহস্য উদঘাটন এবং অন্যান্য পলাতক আসামিদের শনাক্ত করতে রিমান্ড প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে ১৮ জুন আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছিলেন জাহের আলভী। তবে শুনানি শেষে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।



