চিরকুটে ছিল মৃত্যুর হুমকি, একদিন পরই উদ্ধার শিশুর বস্তাবন্দি লাশ

চট্টগ্রামের পটিয়ায় অপহরণের দুই দিন পর মো. জায়হান (৫) নামে এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে পটিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোবিন্দার খীল এলাকায় তার বাড়ির পাশের একটি ময়লার ভাগাড় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত জায়হান একই এলাকার শাহজাহানের ছেলে। পুলিশ জানায়, ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে বাড়ির সামনে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় জায়হান। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। পরদিন বিকেলে শাহজাহানের শয়নকক্ষের বিছানায় একটি হাতে লেখা চিঠি পাওয়া যায়।
চিঠিতে অপহরণকারীরা দাবি করে, জায়হান তাদের কাছে রয়েছে এবং তাকে ফিরে পেতে হলে আধা ঘণ্টার মধ্যে ৩ লাখ টাকা ও পরিবারের যেকোনো একজনের আনলক করা মোবাইল ফোন একটি ব্যাগে ভরে বাড়ির সামনের রাস্তার পাশের ভাঙা দোকানের ভেতর রেখে যেতে হবে।
চিঠির বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেটি আলামত হিসেবে জব্দ করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে।
স্বজনদের অভিযোগ, মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে অপহরণ করা হয়। পরে শনাক্ত হওয়ার আশঙ্কায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর মরদেহ বস্তায় ভরে বাড়ির পাশের ময়লার ভাগাড়ে ফেলে দেওয়া হয়। তাদের দাবি, অভিযুক্ত কয়েকজন প্রতিবেশী ঘটনার পর পরিবারের সঙ্গে শিশুটিকে খোঁজার ভানও করছিল।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, ‘শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



