বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনমঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬
নারী

বারবার তেঁতুল গাছেই কেন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে সাজেদাকে?

ChatGPT Image Jun 8, 2026, 11_04_27 PM

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় আবারও তেঁতুল গাছের মগডাল থেকে এক গৃহবধূকে উদ্ধার করার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৮ জুন) সকালে উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়াই আনন্দবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। উদ্ধার হওয়া গৃহবধূ সাজেদা বেগম (৪৫) ওই এলাকার আবু সাঈদের স্ত্রী এবং তিন সন্তানের জননী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোররাত থেকে সাজেদা বেগমকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে সকালে বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে থাকা একটি তেঁতুল গাছের মগডালে তাকে বসে থাকতে দেখেন এলাকাবাসী।

খবর পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে জড়ো হন এবং তাকে নিচে নামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় সাজেদা বেগম নিজেই গাছের উঁচু ডাল থেকে নিচের দিকে নেমে আসেন। পরে হঠাৎ পাশের পুকুরে লাফ দেন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।

সাজেদা বেগমের ছেলে জেলানি মিয়া জানান, ভোর রাতে তার মা নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সবাই তাকে খুঁজতে শুরু করেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও কোনো সন্ধান না মেলায় তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে সকালে এলাকাবাসী তেঁতুল গাছের মগডালে তাকে দেখতে পান। নিচে নামানোর সময় তিনি নিজেই নেমে এসে পুকুরে ঝাঁপ দেন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।

স্থানীয়দের দাবি, এটি প্রথম ঘটনা নয়। এর আগেও কয়েকবার একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। গত ৬ মে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১২ ঘণ্টা পর একই তেঁতুল গাছের মগডাল থেকে সাজেদা বেগমকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল। সেবার ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধারকাজে অংশ নেন।

দুর্গাপুর ইউনিয়নের ওয়ার্ড সদস্য রায়হান কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সোমবার ভোররাত থেকে নিখোঁজ থাকার পর সকালে সাজেদা বেগমকে তেঁতুল গাছের মগডালে বসে থাকতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে নিরাপদে নিচে নামানো হয়।

তিনি আরও জানান, এর আগেও একাধিকবার একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে অন্তত চারবার তেঁতুল গাছের মগডাল থেকে সাজেদা বেগমকে উদ্ধার করা হয়েছে। রহস্যজনক এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

কুড়িগ্রামগাছগৃহবধূতেঁতুলসাজেদা