বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ৮ জুন, ২০২৬
বিশ্লেষণ

রাত জাগা হতে পারে ক্যান্সারের কারণ

iStock-1530904519

ব্যস্ততা আর অনিয়মের আধুনিক জীবনে রাত জেগে কাজ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ সময় কাটানো কিংবা অনিদ্রার সঙ্গে লড়াই খুবই সাধারণ হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি দুটি গবেষণা যোগ করেছে নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-খারাপ বা অনিয়মিত ঘুম কি তরুণদের মধ্যে ক্যান্সার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে?

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে অনুষ্ঠিত আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজির (এএসসিও) বার্ষিক সম্মেলন-এ উপস্থাপিত গবেষণায় এমনই একটি সম্ভাব্য সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গবেষণাগুলো পরিচালনা করেছে এমডি অ্যান্ডারসন ক্যান্সার সেন্টার।

গবেষকেরা ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী ১ কোটি ৮০ লাখের বেশি মানুষের স্বাস্থ্যতথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, যাদের ঘুমের সমস্যা রয়েছে বা যারা দীর্ঘদিন অনিদ্রায় ভুগছেন, তাদের মধ্যে অন্ত্র, স্তন, জরায়ু ও ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়।

কিছু ক্ষেত্রে অনিদ্রায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচ বছরের মধ্যে ক্যান্সার শনাক্ত হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় প্রায় তিন গুণ পর্যন্ত বেশি ছিল। তবে গবেষকেরা জোর দিয়ে বলেছেন, এর অর্থ এই নয় যে অনিদ্রাই সরাসরি ক্যান্সারের কারণ। বরং এটি এমন একটি সম্পর্ক, যা নিয়ে আরও গভীর অনুসন্ধান প্রয়োজন।

এই গবেষণার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বৈশ্বিক ক্যান্সার পরিস্থিতি। গত কয়েক দশকে বিশ্বজুড়ে তরুণদের মধ্যে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কেন এমন হচ্ছে, তার সুনির্দিষ্ট উত্তর এখনও মেলেনি। বিজ্ঞানীরা খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশগত প্রভাব, স্থূলতা, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা থেকে শুরু করে বিভিন্ন জীবনধারাগত বিষয় নিয়ে গবেষণা করছেন। ঘুমের বিষয়টিও এখন সেই তালিকায় নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুম শুধু শরীরকে বিশ্রাম দেয় না, বরং এটি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা, হরমোনের ভারসাম্য এবং কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রমের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। ফলে দীর্ঘদিন ঘুমের ব্যাঘাত শরীরের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ ক্লেয়ার কফলান- এর মতে, তরুণদের মধ্যে বিশেষ করে অন্ত্রের ক্যান্সার বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। জিনগত বৈশিষ্ট্য ও জীবনযাপনের অভ্যাসের পাশাপাশি অনিদ্রাও একটি সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

অন্যদিকে ব্রিস্টলের বেটার স্লিপ ক্লিনিকের পরিচালক ডেভিড গার্লি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি ঘুমের ঘাটতি রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকে দুর্বল করে দিতে পারে। পাশাপাশি অনিদ্রায় ভোগা অনেক মানুষের মধ্যে ধূমপান, কম শারীরিক পরিশ্রম বা অতিরিক্ত ওজনের মতো অন্যান্য ঝুঁকিও দেখা যায়, যা ক্যান্সারের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।

তবে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও উল্লেখ করেন। অনেক সময় সম্পর্কটি উল্টো দিক থেকেও হতে পারে। অর্থাৎ, শরীরে ক্যান্সারের প্রাথমিক পরিবর্তন শুরু হলে সেটি মানুষের ঘুমের ধরণে প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনিদ্রা ও ক্যান্সারের মধ্যে সম্পর্ক থাকলেও এটিকে সরাসরি কারণ হিসেবে দেখার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ এখনো নেই। এ বিষয়ে আরও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন। তবে ধূমপান এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং পর্যাপ্ত ঘুম সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অনিদ্রাক্যান্সারবিশেষজ্ঞরাত জাগা