সিঙ্গেল মায়েদের অনেক সময় ভিন্ন চোখে দেখা হয়: মাধুরী দীক্ষিত

ওটিটির পর্দায় আবারও ফিরছেন মাধুরী দীক্ষিত। নেটফ্লিক্সের ‘মা বেহেন’ ছবিতে তাকে দেখা যাবে দুই মেয়ের মায়ের চরিত্রে। পরিচালক সুরেশ ত্রিবেণী ছবিটিতে তুলে ধরেছেন এক ব্যতিক্রমী ও মজার গল্প। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে ছবিটির ট্রেলার।
মুম্বাইয়ের এক পাঁচতারকা হোটেলে আয়োজিত ট্রেলার প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাধুরী দীক্ষিত, তৃপ্তি দিমরি, রবি কিষান, ধর্না দুর্গা, গীতাঞ্জলি কুলকার্নি ও পরিচালক সুরেশ ত্রিবেণীসহ ছবির কলাকুশলীরা। অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল আড্ডা, খেলা ও নাচের আয়োজন। ‘ধক ধক করনে লাগা’ গানের সঙ্গে মাধুরীর নাচ অনুষ্ঠানে আলাদা মাত্রা যোগ করে।

ছবিতে নিজের চরিত্র প্রসঙ্গে মাধুরী বলেন, ‘আমি সব সময় এমন গল্পে কাজ করতে চেয়েছি, যেখানে নারীদের শক্তিশালী চরিত্র থাকে। সুরেশ ও বিক্রম মালহোত্রার কাছে আমি কৃতজ্ঞ, তারা এই চরিত্রের জন্য আমার কথা ভেবেছেন। এটি আমার জন্য একেবারেই ভিন্ন ধরনের চরিত্র।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি একটি অকার্যকর পরিবারের গল্প, যেখানে কেউই নিখুঁত নয়। আমার চরিত্রটিও নিখুঁত নয়। সে এমন এক সমাজে বাস করে, যেখানে সিঙ্গেল মায়েদের অনেক সময় ভিন্ন চোখে দেখা হয়। মেয়েদের সঙ্গে তার সম্পর্কেও জটিলতা আছে, কিন্তু তাদের জন্য সে সবকিছু করতে প্রস্তুত।’
ছবিতে কমেডির অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মাধুরী দীক্ষিতের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ রবি কিষান। তাঁর ভাষায়, ‘শুধু আমি নই, গোটা পৃথিবীই মাধুরী ম্যাডামের ভক্ত। তাঁর সঙ্গে পর্দা ভাগ করে নেওয়া আমার জন্য সৌভাগ্যের বিষয়।’
শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘আমি সব সময় সময়ের আগেই সেটে পৌঁছানোর চেষ্টা করতাম, কিন্তু প্রায়ই দেখতাম উনি আমার আগেই এসে গিয়েছেন। প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও শুটিং করতে হয়েছে, কাজটা ছিল বেশ কঠিন।’
অভিনেত্রী ও কনটেন্ট নির্মাতা ধর্না দুর্গা জানান, যেকোনো কাজেই চাপ থাকে, তবে তা ইতিবাচকভাবে নেওয়াই জরুরি। ‘আমি রিল বানাই বা ছবি করি, প্রায় সব সময়ই একটু চিন্তায় থাকি। তবে এ ধরনের চাপ ভালো। এটা ইতিবাচক চাপ,’ বলেন তিনি।
এদিকে মাধুরী দীক্ষিতের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তৃপ্তি দিমরি। জিজ্ঞাসা করা হয় মাধুরীর নাচের প্রিয় স্টেপ সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের মধ্যে থেকে একটি প্রিয় স্টেপ বেছে নেওয়া প্রায় পাপের মতো। এখনো বিশ্বাস হয় না, আমি তার সঙ্গে একই পর্দায় কাজ করেছি।’
শুটিংয়ের ফাঁকে তারা অন্ত্যাক্ষরী খেলতেন বলেও জানান তিনি। তৃপ্তি বলেন, ‘কখনোই মনে হয়নি আমি কোনো সুপারস্টারের সঙ্গে কাজ করছি। উনি আমাদের সঙ্গে একেবারে বন্ধুর মতো ব্যবহার করেছেন। কোনো দৃশ্যে আটকে গেলে নিজে এগিয়ে এসে সাহায্য করতেন।’
ছবিটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বিশেষ প্রকল্প বলেও মন্তব্য করেন তৃপ্তি। তিনি বলেন, ‘সুরেশ স্যার যখন গল্পটা শোনান, আমার মনে হয়েছিল এটা জীবনে শোনা সেরা ন্যারেশন। এই ছবিকে একক কোনো ঘরানায় ফেলা যায় না। শুটিং শেষে সবার সঙ্গ ছাড়তে খুব খারাপ লেগেছিল।’
পরিচালক সুরেশ ত্রিবেণী বলেন, কাস্টিং নিয়ে প্রথমে জটিলতা হবে বলে মনে হলেও বাস্তবে সেটি সবচেয়ে সহজ প্রক্রিয়াগুলোর একটি ছিল। তাদের প্রত্যেককে পাওয়া নিজের জন্য আশীর্বাদের মতো ছিল বলে জানান তিনি।



