কোরবানির মাংস কা’টতে গিয়ে অঙ্গ বিচ্ছি’ন্ন হলে কী করবেন?

কোরবানির ঈদ মানেই ব্যস্ততা, উৎসব আর পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি। তবে এই সময়টাতে সবচেয়ে বেশি যে দুর্ঘটনাগুলো ঘটে, তার মধ্যে অন্যতম হলো ধারালো দা, ছুরি বা বটির আঘাতে হাত-পা কেটে যাওয়া। কখনো কখনো দুর্ঘটনাবশত হাতের আঙুল বা শরীরের অন্য কোনো অংশ বিচ্ছিন্নও হয়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদের দিন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে সবচেয়ে বেশি রোগী আসে কোরবানির সময় কাটা-ছেঁড়াজনিত দুর্ঘটনা নিয়ে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অসাবধানতা, অনভিজ্ঞতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা না মানার কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
কেন বাড়ছে দুর্ঘটনা?
কোরবানির সময় অনেকেই দ্রুত কাজ শেষ করার তাড়ায় নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দেন না। অনেকে ধারালো ছুরি ব্যবহারে অভ্যস্ত নন। আবার ভেজা বা পিচ্ছিল জায়গায় দাঁড়িয়ে মাংস কাটার সময় হাত ফসকে দুর্ঘটনা ঘটে।
শিশু-কিশোরদের কৌতূহল থেকেও ঝুঁকি তৈরি হয়। অনেক সময় তারা বড়দের পাশে দাঁড়িয়ে থাকে বা নিজেরাও ছুরি ধরতে চেষ্টা করে। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।
অঙ্গ বিচ্ছিন্ন হলে প্রথম করণীয়
দুর্ঘটনাবশত হাতের আঙুল বা শরীরের কোনো অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ প্রথম এক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রক্তপাত বন্ধ করুন
প্রথমে পরিষ্কার কাপড় বা গজ দিয়ে ক্ষতস্থানে চাপ দিয়ে রক্তপাত বন্ধ করার চেষ্টা করতে হবে। সম্ভব হলে আক্রান্ত অঙ্গটি হৃদপিণ্ডের চেয়ে একটু উঁচুতে রাখতে হবে।
বিচ্ছিন্ন অংশটি সংরক্ষণ করুন
বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া আঙুল বা অঙ্গ পরিষ্কার পানিতে আলতোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার কাপড়ে মুড়িয়ে একটি পলিথিন ব্যাগে রাখতে হবে। এরপর সেই ব্যাগটি বরফযুক্ত আরেকটি পাত্রে রাখতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, বিচ্ছিন্ন অংশ যেন সরাসরি বরফ বা পানির সংস্পর্শে না আসে। এতে টিস্যু নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
দ্রুত হাসপাতালে নিন
রোগীকে যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ হাসপাতালে নিতে হবে। প্লাস্টিক সার্জারি বা মাইক্রোসার্জারির সুবিধা রয়েছে এমন হাসপাতালে নিলে বিচ্ছিন্ন অঙ্গ পুনরায় জোড়া লাগানোর সম্ভাবনা বাড়ে।
যা কখনো করবেন না
-ক্ষতস্থানে ময়লা কাপড় ব্যবহার করা যাবে না
– বিচ্ছিন্ন অংশ সরাসরি বরফে রাখা যাবে না
-রক্তপাত বন্ধ করতে অতিরিক্ত শক্ত করে বাঁধা যাবে না
-লোকজ চিকিৎসা বা তেল-মলম ব্যবহার করা ঠিক নয়
-সময় নষ্ট করে বাসায় বসে থাকা বিপজ্জনক হতে পারে
কীভাবে দুর্ঘটনা এড়াবেন?
- অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে কাজ করতে দিন
- পশু জবাই ও মাংস কাটার কাজ দক্ষ ব্যক্তির মাধ্যমে করানো সবচেয়ে নিরাপদ।
- ধারালো যন্ত্র সাবধানে ব্যবহার করুন
- ভোঁতা ছুরি বেশি বিপজ্জনক। তবে ধারালো যন্ত্র ব্যবহারের সময় মনোযোগ ধরে রাখতে হবে।
- পিচ্ছিল স্থান এড়িয়ে চলুন
- রক্ত বা পানি পড়ে মেঝে পিচ্ছিল হয়ে যায়। তাই নিয়মিত জায়গা পরিষ্কার করতে হবে।
- শিশুদের দূরে রাখুন
- কোরবানির কাজের সময় শিশুদের নিরাপদ দূরত্বে রাখতে হবে।
- গ্লাভস ব্যবহার করা যেতে পারে
- কাটারোধী গ্লাভস ব্যবহার করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কিছুটা কমে।
সচেতনতাই সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা
কোরবানির আনন্দ যেন দুর্ঘটনায় ম্লান না হয়ে যায়, সেদিকে সবার খেয়াল রাখতে হবে। সামান্য অসতর্কতা একজন মানুষের স্বাভাবিক জীবন বদলে দিতে পারে। তাই কোরবানির সময় তাড়াহুড়া নয়, প্রয়োজন ধৈর্য, সচেতনতা এবং নিরাপদ ব্যবস্থাপনা।
মনে রাখতে হবে, দুর্ঘটনা ঘটলে আতঙ্ক নয়- দ্রুত ও সঠিক পদক্ষেপই জীবন এবং অঙ্গ রক্ষার সবচেয়ে বড় উপায়।



