ঈদের মেনুতে ভারসাম্য: কড়াই গোশত ও সালাদ কম্বো

ঈদ মানেই বাড়িতে নানান পদের রান্না। আর কুরবানির ঈদ মানেই গরুর মাংসের গন্ধ আর উৎসবের আনন্দ। এ সময় জুড়ে গরুর মাংস খাওয়ার প্রবণতা তুলনামূলক বেশিই থাকে। কিন্তু ভারী খাবারের পরিমাণ বেশি থাকলে খাবারের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। তাই দরকার সালাদের মতো সহজ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ একটি কম্প্যানিয়ন।
গরুর মাংসের রেসিপির সংখ্যা অগণিত। সাধারণ গরু রান্নার পাশাপাশি বাড়িতে একটি নতুন রেসিপি রান্না করতে পারেন। তা হল কড়াই গোশত।
কড়াই গোশত

১৯ শতকের শুরুর দিকে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় প্রথম মাটন কড়াই তৈরি হয়েছিল যাকে বলা হতো ‘কারহাই গোশত্’। ধরা হয়, এরও আগে মুঘল শাসনামলে ভারতে এর উৎপত্তি হয়েছিল।
বর্তমানে মুরগি ও গরুর মাংস দিয়েও কড়াই গোশত রান্না করা হয় এবং ঐতিহ্যবাহী খাবার হিসেবে এর কদরও রয়েছে। আসছে ঈদে আপনিও তৈরি করতে পারবেন এই কড়াই গোশত। রেসিপি একই রেখে বিফের পরিবর্তে চাইলে মাটনও ব্যবহার করতে পারেন।
উপকরণ
গরুর মাংস ১/২ কেজি, ৪ টেবিল চামচ তেল, পরিমাণমতো লবণ, পেঁয়াজ কুচি, ১ টেবিল চামচ করে আদা-রসুন বাটা, ১/২ চা চামচ গোল মরিচ গুঁড়া, ১ চা চামচ করে লাল মরিচ গুঁড়া, জিরা গুঁড়া, ধনিয়া গুঁড়া, ১/২ চা চামচ হলুদের গুঁড়া, ১/২চা চামচ গরম মশলা গুঁড়া, কাঁচা মরিচ, টমেটো, ৪ টেবিল চামচ টক দই, জুলিয়ান আদা, ১ টেবিল চামচ কাসরি মেথি, ধনে পাতা কুচি।
যেভাবে রান্না করবেন
প্রথমে একটি কড়াইয়ে তেল দিয়ে পেঁয়াজ কুচি ও আদা- রসুন বাটা দিয়ে এক মিনিট নেড়ে নিতে হবে। এরপরে মাংসটুকু দিয়ে দিতে হবে। চুলার আঁচ সর্বোচ্চ (হাই) দিয়ে মাংসটুকু ৮-১০ মিনিটের জন্য ভেজে নিতে হবে।
এখন একে একে লবণ ও বাকি গুঁড়া মশলা গুলো দিয়ে দিতে হবে ও মাংসের সাথে খুব ভালো ভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর কাঁচা মরিচ ও টমেটো দিয়ে দিতে হবে ও ১.৫ কাপ পানি দিয়ে নেড়েচেড়ে ঢেকে দিতে হবে মাংস সিদ্ধ হয়ে যাওয়া পর্যন্ত।
চুলার আঁচ থাকবে নিম্নমধ্যম (মিডিয়াম-লো) তে। মাংস সেদ্ধ হলে টক দই দিয়ে ভালোভাবে ৪-৫ মিনিট নাড়তে হবে। এরপর দিতে হবে কাঁচা মরিচ, জুলিয়ান আদা আর ফ্লেভারের জন্যে মেথি। তারপর ধনে পাতা কুচি ছড়িয়ে দিয়ে চুলা থেকে নামিয়ে পরিবেশন করুন কড়াই গোশত।
সাথে রাখতে পারেন একটি সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর সালাদ।
সালাদ

একটি স্বাস্থ্যকর সালাদ রেসিপি বাড়িয়ে দিতে পারে খাবারের স্বাদ।
উপকরণ
শসা কুচি, টমেটো কুচি, পেঁয়াজ পাতলা করে কাটা, গাজর কুচি, লেবুর রস, লবণ ও সামান্য গোলমরিচ,সামান্য জলপাই তেল (ঐচ্ছিক)।
যেভাবে প্রস্তুত করবেন
সব সবজি ধুয়ে ছোট ছোট করে কেটে নিন। একটি বাটিতে সব উপকরণ মিশিয়ে নিন। লেবুর রস, লবণ ও গোলমরিচ দিয়ে ভালোভাবে মিক্স করুন। খাওয়ার ঠিক আগে পরিবেশন করুন যাতে ফ্রেশ থাকে।
সব মিলিয়ে ঈদের খাবার শুধু ভরপেট খাওয়ার বিষয় নয়, বরং স্বাদ, স্বাস্থ্য আর ভারসাম্যের সুন্দর মিশ্রণ। গরুর মাংস যেমন উৎসবের মূল আকর্ষণ, তেমনি সালাদ সেই প্লেটকে দেয় হালকা ও সতেজতার ছোঁয়া। একটু সচেতনভাবে মেনু সাজাতে পারলেই ঈদের আনন্দ হয় আরও আরামদায়ক ও স্বাস্থ্যকর।



