বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
বিনোদন

ডিপফেকের শিকার অভিনেত্রী, অভিযোগ দায়ের

rukmini-vasanth-8k-1920×1080-25018

দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী রুক্মিণী বসন্তকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনলাইনে একটি কথিত ‘বিকিনি ফটোশুট’ ভিডিও ও কয়েকটি ছবি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি দ্রুতই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিও ও ছবিতে সবুজ বিকিনি পরা এক তরুণীকে সুইমিংপুলের পাশে ফটোশুট করতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে অনেক ব্যবহারকারী সেটিকে রুক্মিণী বসন্তের নতুন ফটোশুট বলে দাবি করতে শুরু করেন এবং বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ভিডিওটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এতে সাধারণ দর্শকের মধ্যে বিভ্রান্তিও তৈরি হয়।

বিভিন্ন প্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও সূত্রের দাবি অনুযায়ী, এসব ছবি ও ভিডিও আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি ডিপফেক কনটেন্ট। অর্থাৎ, বাস্তবে অভিনেত্রীর সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই এবং এটি সম্পূর্ণভাবে ডিজিটালভাবে তৈরি একটি মিথ্যা উপস্থাপনা।

ভিডিওটি আরও ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, কিছু দৃশ্যে আলো, মুখের অভিব্যক্তি ও শরীরের গতিবিধিতে অসামঞ্জস্য রয়েছে, যা সাধারণত এআই-জেনারেটেড কনটেন্টে দেখা যায়। এ কারণে অনেকেই এটিকে পরিকল্পিত ডিপফেক হিসেবে চিহ্নিত করছেন।

কীভাবে ছড়াল ভিডিও

প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই যাচাই না করেই এটিকে সত্যি ফটোশুট হিসেবে ধরে নেন। এরপর সেটিকে ‘রুক্মিণীর প্রথম বিকিনি ফটোশুট’ বলে শেয়ার করা শুরু হয়। দ্রুত শেয়ার, রি-শেয়ার এবং মন্তব্যের মাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়। পরে বিষয়টি নিয়ে অনলাইনে বিতর্ক ও সংশয় আরও বাড়তে থাকে।

Advertisements

সম্প্রতি বেঙ্গালুরুতে এক অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে রুক্মিণী বসন্ত জানান, ইতোমধ্যে তিনি সাইবার ক্রাইম বিভাগে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং তদন্তের ওপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রুক্মিণী বলেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে আগে থেকেই সামাজিক মাধ্যমে একটি বিবৃতি দিয়েছেন, যেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিকৃত। তিনি আরও জানান, এ ধরনের প্রযুক্তির অপব্যবহার শুধু তার মতো অভিনেত্রীদের জন্য নয়, বরং সাধারণ নারীদের জন্যও ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তার ভাষায়, ‘এরকম কাজ অভিনেত্রীদের দিয়ে শুরু হয়েছে, কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে সাধারণ মেয়েরাও সমস্যায় পড়বে। তাই এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।’

এর আগে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব ছবিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও কৃত্রিমভাবে তৈরি’ বলে উল্লেখ করেন এবং এটিকে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি জানান, তার টিম ইতোমধ্যে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

ডিপফেক প্রযুক্তি নিয়ে উদ্বেগ

সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় বিনোদন জগতে এআই-ভিত্তিক ডিপফেক কনটেন্ট একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনপ্রিয় তারকাদের মুখ ও ছবি ব্যবহার করে ভুয়া ভিডিও তৈরি করে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা বাড়ছে, যা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে নারী শিল্পীরা এ ধরনের ভুয়া কনটেন্টের শিকার হচ্ছেন বেশি।

এই ধরনের ঘটনায় সাধারণ ব্যবহারকারীদেরও বিভ্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে, কারণ অনেক সময় প্রযুক্তিগতভাবে তৈরি এসব ভিডিও এতটাই বাস্তবসম্মত দেখায় যে প্রথম নজরে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ে। রুক্মিণী বসন্তের ঘটনাও সেই তালিকায় নতুন সংযোজন। কারণ, অনেক দর্শক প্রথমে ভিডিওটিকে সত্যি বলেই ধরে নিয়েছিলেন।

রুক্মিণী বসন্ত অভিনীত ‘সাপতা সাগারাদাছে এল্লো’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। পরবর্তীতে তার কাজের মাধ্যমে তিনি দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। বর্তমানে তিনি ‘টক্সিক’ ও ‘ড্রাগন’সহ একাধিক বড় বাজেটের প্রজেক্টে কাজ করছেন, যেখানে তার সহশিল্পীদের মধ্যে রয়েছেন যশ ও জুনিয়র এনটিআর-এর মতো তারকারা।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

Advertisements