ডাবের বিকল্পে এখন অনেকের পছন্দ তালশাঁস

প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাঁস করছে পুরো বাংলাদেশ। দুপুরের তীব্র রোদ আর গরম বাতাসে বাইরে বের হওয়াই যেন কষ্টকর হয়ে উঠেছে। এমন সময় শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সবার পছন্দ প্রাকৃতিক ও সহজলভ্য খাবার। আর এই তালিকায় অন্যতম একটি নাম হলো তাল শাঁস।

বাংলাদেশে অঞ্চলভেদে একে তালশাঁস, তালের শাঁস, তাল কুরা নামে ডাকা হয়। গ্রামবাংলায় আবার অনেকেই শুধু ‘কাঁচা তাল’ বলেও বুঝিয়ে থাকেন, যদিও আসলে সেটা তালের ভেতরের নরম শাঁস অংশকে বোঝায়। শহুরে এলাকায় বা অনলাইনে অনেকে ইংরেজি নামে আইস অ্যাপল ডাকেন
গ্রামবাংলার মানুষের কাছে তালশাঁস নতুন কিছু নয়। বহু বছর ধরেই গ্রীষ্মকালে এটি ছিল স্বস্তির এক প্রাকৃতিক উৎস। কাঁচা তালের ভেতরে থাকা স্বচ্ছ, নরম ও রসালো এই শাঁস শুধু খেতেই সুস্বাদু নয়, গরমে শরীরেও এনে দেয় প্রশান্তি। এখন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গ্রামের গণ্ডি পেরিয়ে শহরের অলিগলি, ফুটপাত আর বাজারেও সহজেই দেখা মিলছে তালশাঁসের।
সাধারণত বৈশাখের শেষ দিক থেকে শুরু করে আষাঢ়-শ্রাবণ পর্যন্ত বাজারে তালশাঁস পাওয়া যায়। অর্থাৎ মে থেকে আগস্ট—এই সময়টাই তালশাঁসের মৌসুম। গরম যত বাড়ে, তালশাঁসের চাহিদাও তত বাড়তে থাকে।
বর্তমানে ডাবের দাম অনেকটাই বেড়ে যাওয়ায় অনেকের কাছেই তা নিয়মিত খাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তুলনামূলকভাবে তালশাঁসের দাম অনেক কম, তাই কম খরচে গরমে আরাম পাওয়ার জন্য এটি হয়ে উঠছে জনপ্রিয় একটি বিকল্প।
সাধারণত আকার ও স্থানের ওপর ভিত্তি করে প্রতি পিস তালশাঁস ১০ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে বিক্রি হতে দেখা যায়। কোথাও কোথাও তিন শাঁসযুক্ত বড় তালশাঁসের দাম আরও কিছুটা বেশি হতে পারে। তবুও ডাবের তুলনায় এটি অনেকটাই সাশ্রয়ী।
নরম, ঠান্ডা আর হালকা মিষ্টি স্বাদের এই ফলটি খেতে সুস্বাদু। এর ভেতরে রয়েছে প্রচুর পানি ও নরম জেলির মতো অংশ। যদি কিছুক্ষণ ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে খাওয়া যায়, তাহলে এর স্বাদ ও প্রশান্তি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। অনেকেই এখন বাসায় এনে ফ্রিজে রেখে পরিবারের সবাই মিলে উপভোগ করেন এই মৌসুমি ফল।
সুলভ মূল্য ও স্বাদে আধুনিক ব্যস্ত শহুরে জীবনেও তাই তালশাঁস জায়গা করে নিচ্ছে মানুষের পছন্দের তালিকায়।



