বাংলাদেশের নারী ও জীবনধারার ম্যাগাজিনশনিবার, ৯ মে, ২০২৬
বিবিধ

দাদা-দাদির পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বৃষ্টি

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিহত বাংলাদেশি পিএইচডি গবেষক নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (৯ মে) সন্ধ্যায় মাদারীপুর সদরের খোয়াজ...

দাদা-দাদির পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বৃষ্টি

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিহত বাংলাদেশি পিএইচডি গবেষক নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (৯ মে) সন্ধ্যায় মাদারীপুর সদরের খোয়াজপুর ইউনিয়নের চরগোবিন্দপুর গ্রামে তার মরদেহ সমাহিত করা হয়।

এর আগে শনিবার (৯ মে) সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে বৃষ্টির মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়।

বৃষ্টির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাবাব বলেন, ‘বৃষ্টি উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে ফিরে দেশের উন্নয়নে বড় অবদান রাখতে পারতেন। তাকে যে বা যারা হত্যা করেছে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে বাংলাদেশ সরকার ও দূতাবাস মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। যেকোনো প্রয়োজনে প্রশাসন বৃষ্টির পরিবারের পাশে রয়েছে।’

আজ দুপুর ১২টায় বৃষ্টির গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, নিকটাত্মীয় ও প্রতিবেশীরা মরদেহ দেখার জন্য ভিড় করেছেন। দুপুর দেড়টার দিকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি বাড়িতে পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

মেয়ের শোকে মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। বৃষ্টির চাচিকে জড়িয়ে ধরে তিনি আহাজারি করে বলছিলেন, ‘আমার কলিজার টুকরা আমাকে ছেড়ে কোথায় চলে গেল? এখন আমি কাকে নিয়ে থাকব? আমার বৃষ্টিকে তোমরা ফিরিয়ে দাও।’

বাদ আসর চরগোবিন্দপুর উত্তরকান্দি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বৃষ্টির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তারই পরিকল্পনা ও ভাইয়ের করা নকশায় নবনির্মিত বাড়ির পাশেই তাকে দাফন করা হয়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন বলেন, ‘ঈদে গ্রামে এসে যেন সবাই একসঙ্গে থাকতে পারি, সেজন্য বৃষ্টির পছন্দের নকশায় বাড়িটি করেছিলাম। জুলাই মাসে দেশে এসে তার এই বাড়িটি উদ্বোধন করার কথা ছিল। কিন্তু আমার মা বাড়ি উদ্বোধন না করে পরপারে চলে গেল। এখন এই বাড়িতে আমি কীভাবে থাকব?’

তিনি জানান, বৃষ্টি সবসময় বলত, পিএইচডি শেষে দেশে ফিরে আসবে এবং কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে দেশের জন্য নতুন কিছু উদ্ভাবন করবে।

এখন বৃষ্টির বাবার একটাই দাবি, হত্যাকারীর যেন সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হয়। বৃষ্টির চাচাতো বোন তুলি আক্তার বলেন, ‘আমি একাদশ শ্রেণিতে পড়ি। আপুর মতো আমারও উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু এই ঘটনার পর পরিবার আর আমাকে বাইরে পাঠাতে চাচ্ছে না। যদি এই হত্যাকাণ্ডের কঠিন বিচার না হয়, তবে শিক্ষার্থীরা বিদেশে গিয়ে পড়াশোনার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। হত্যাকারীর ফাঁসি হওয়া উচিত।’

উল্লেখ্য যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল নিখোঁজ হন। পরে ২৪ এপ্রিল লিমনের এবং ২৬ এপ্রিল বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গত ৪ মে লিমনের মরদেহ দেশে এনে সমাহিত করা হয়েছে।

চিরনিদ্রাপিএইচডিবৃষ্টিমাদারীপুরযুক্তরাষ্ট্র