এশিয়ান গেমসে প্রথমবার, স্বপ্নপূরণের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশের মেয়েরা

প্রথমবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে অংশ নিয়েই ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশের নারী দল। এশিয়ান গেমস বাছাইপর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে মূল পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে তারা। এই সাফল্যে উজ্জীবিত অর্পিতা পালদের লক্ষ্য এখন আরও বড়- বাছাইপর্বের শিরোপা জেতা।
ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় আজ সেমিফাইনালে সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচে অপরাজিত থেকে ৭ পয়েন্ট সংগ্রহ করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। চায়নিজ তাইপের সঙ্গে ৫-৫ গোলে ড্র করার পাশাপাশি উজবেকিস্তান ও হংকংকে হারিয়ে নিজেদের সক্ষমতার জানান দিয়েছে দলটি।
তবে এই সাফল্যের পথ সহজ ছিল না। আর্থিক সংকটের কারণে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বাছাইপর্বে অংশগ্রহণ নিয়েই অনিশ্চয়তা ছিল। প্রস্তুতি ম্যাচ ছাড়াই জাকার্তায় পাড়ি জমাতে হয়েছে দলকে। পরে ফেডারেশনের সভাপতির উদ্যোগে অর্থসংকট কাটিয়ে টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া সম্ভব হয়।
বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) রিয়াজুল হাসান বলেন, প্রথমবার এশিয়ান গেমসে কোয়ালিফাই করা ফেডারেশনের জন্য বড় অর্জন। তিনি জানান, এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ না করলে অন্য দলগুলোর উন্নতির মাত্রা বোঝা সম্ভব হতো না। তার মতে, উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দলগুলোও দ্রুত উন্নতি করছে।
দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়ই অনভিজ্ঞ, কারণ তারা এতদিন বয়সভিত্তিক পর্যায়েই খেলেছে। তবুও চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করেছে মেয়েরা। সঠিক পরিকল্পনা ও পরিচর্যা পেলে আগামী ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যে শক্তিশালী নারী দল গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আগামী সেপ্টেম্বরে জাপানে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান গেমসের মূল পর্ব। সময় স্বল্প হলেও এখন থেকেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা ভাবছে ফেডারেশন। খেলোয়াড়দের নিয়ে ক্যাম্প আয়োজন এবং বিদেশি দলের সঙ্গে ৪-৫টি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক।
সেমিফাইনালে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশের মেয়েরা—চোখ এখন ফাইনাল ও শিরোপার দিকে।



