লাইক-শেয়ারের ফাঁদ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেভাবে বদলে দিচ্ছে শরীর ও মন

একসময় হারিয়ে যাওয়া বন্ধুকে খুঁজে পাওয়া কিংবা দূরদেশে থাকা প্রিয়জনের মুহূর্তগুলো দেখার সহজ মাধ্যম হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমাদের জীবনে জায়গা করে নেয়। আজ এটি শুধু যোগাযোগ নয়- বাণিজ্য, বিনোদন, এমনকি সামাজিক আন্দোলনের শক্তিশালী হাতিয়ার। কিন্তু প্রয়োজনের বাইরে অতিরিক্ত ব্যবহার ধীরে ধীরে তৈরি করছে অদৃশ্য কিছু ঝুঁকি, যা শরীর ও মনের ওপর ফেলছে গভীর প্রভাব।

ঘাড় ও চোখে চাপের নীরব যন্ত্রণা
দীর্ঘ সময় মোবাইলের দিকে ঝুঁকে থাকা এখন অনেকের অভ্যাস। ফলে ঘাড়ে ব্যথা, যা ‘টেক্সট নেক সিনড্রোম’ নামে পরিচিত, ক্রমেই বাড়ছে। একইভাবে ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের সামনে ভুল ভঙ্গিতে বসে থাকলেও সমস্যা বাড়ে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় চোখের শুষ্কতা, ব্যথা এবং মাথাব্যথা- যা দীর্ঘমেয়াদে আরও জটিল হতে পারে।
ঘুমের ছন্দপতন, শরীরে অলসতা
রাত জেগে স্ক্রল করতে করতে কখন যে ঘুমের সময় পেরিয়ে যায়, অনেকেই টের পান না। এতে ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হয়, সকালে ক্লান্তি নিয়ে দিন শুরু হয়। একই সঙ্গে শারীরিক পরিশ্রম কমে গিয়ে বাড়ে অলসতা, এমনকি ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকিও।
অদৃশ্য উদ্বেগের ফাঁদ
অনেকেই ভোগেন ‘ফোমো’ বা কিছু মিস হয়ে যাওয়ার ভয়। ফলে বারবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুঁ মারার প্রবণতা তৈরি হয়। বাস্তব মুহূর্ত উপভোগের চেয়ে সেটি অনলাইনে তুলে ধরার তাগিদ বেড়ে যায়। এতে মানসিক অস্থিরতা বাড়ে, স্বাভাবিক আনন্দও হারিয়ে যায়।

তুলনার বিষে বিষণ্ণতা
অন্যের সাজানো ‘সুখের’ ছবি দেখে নিজের জীবনকে তুচ্ছ মনে হওয়া খুব সাধারণ একটি ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। লাইক, কমেন্ট বা প্রতিক্রিয়ার তুলনা থেকেও তৈরি হয় হীনম্মন্যতা। পাশাপাশি নেতিবাচক মন্তব্য অনেকের মনে দীর্ঘস্থায়ী দুঃখের ছাপ ফেলে।
সম্পর্কে দূরত্বের দেয়াল
ভার্চ্যুয়াল জগতের ঝলমলে উপস্থাপন অনেক সময় বাস্তব সম্পর্ককে প্রভাবিত করে। অন্যের জীবন দেখে নিজের সম্পর্ক নিয়ে অযথা প্রত্যাশা তৈরি হয়, যা সম্পর্কের ভেতরে অস্বস্তি ও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
সমাধান কোথায়?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে পুরোপুরি দূরে থাকা হয়তো সম্ভব নয়, আবার প্রয়োজনও নেই। তবে সচেতন ব্যবহারই হতে পারে সমাধান। নিজের সময়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা, নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা এবং বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া- এসবই সাহায্য করতে পারে ভারসাম্য বজায় রাখতে।
মনে রাখা জরুরি- আমরা প্রযুক্তিকে ব্যবহার করার জন্য, প্রযুক্তি যেন আমাদের নিয়ন্ত্রণ না করে।



