বাবার একটাই চাওয়া, যুক্তরাষ্ট্রের আইন/শৃঙ্খলা বাহিনী যেন বৃষ্টির লা/শ খুঁজে বের করে

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির গ্রামের বাড়িতে বইছে মাতম। তাঁর করুণ মৃত্যু কোনোভাবেই মানতে পারছে না পরিবার। হত্যাকারীর কঠোর শাস্তি ও বিচার চান তাঁরা।
কান্নাজনিত কণ্ঠে জহির উদ্দিন আকন বলেন, ‘মেয়ের সাথে আমাদের রোজই কথা হতো। গত বৃহস্পতিবার আমার সবশেষ কথা হয়। তখন বৃষ্টি ওর ক্যাম্পাসের ল্যাবের ডেস্কে ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করছিল। এর পর থেকে বৃষ্টির ফোন বন্ধ। পরে বাংলাদেশি অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও বৃষ্টির কোনো সন্ধান পাই না। যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ আমাদের বৃষ্টির মৃত্যুর সংবাদ জানিয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, আমাদের মেয়ের সঙ্গে বাঙালি কমিউনিটির অন্য শিক্ষার্থীদের ভালো সম্পর্ক ছিল। ঘনিষ্ঠতা ছিল কয়েকজনের সঙ্গে। এর মধ্যে একজন লিমন। তবে লিমনের সঙ্গে আমার মেয়ের কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। মিডিয়াতে এটি ভুল বলা হচ্ছে। ওরা ভালো বন্ধু ছিল।’
আজ রোববার সকালে নিহত বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন বলেন, ‘মেয়েটাকে আমি শেষবারের মতো দেখতে চাই। বৃষ্টির মা, ভাই সবাই খুব মন খারাপ করে আছে। কান্নাকাটি করছে। সবার মন মরা। এ অবস্থায় আমাদের একটাই আকুতি। ওর মরদেহটা যেন যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খুঁজে বের করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। আমরা এর বাইরে আর কিছু চাই না।’
তিনি জানান, ‘মেয়ের লাশ পাওয়ার খবরের আশায় গতকাল শনিবার রাত জেগে অপেক্ষা করেছি। যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ আর ফোন করেনি। তাদের ফোন করার কথা ছিল। পরে আমরা যোগাযোগ করে জেনেছি, তারা (পুলিশ) এখনো বৃষ্টির মরদেহ খুঁজতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। পুলিশ লিমনের বাসা থেকে একটি দেহের খণ্ডিত অংশ পেয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি বৃষ্টির দেহের অংশ। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি। আমাদের সঙ্গে নিয়মিত বৃষ্টির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি দূতাবাস, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে পুলিশসহ যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটি যোগাযোগ রাখছে। আশ্বস্ত করেছে, বৃষ্টির হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতসহ তার লাশটি খুঁজে পেতে তারা সহযোগিতা করবে। এখন অপেক্ষা করা ছাড়া কিছুই করতে পারছি না।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা অবগত রয়েছি। নিহত বৃষ্টির পরিবারের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করেছি। একটি আবেদন লাগবে। পরে আমরা প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে বৃষ্টির লাশ আনাসহ যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পাঠিয়ে দেব। আশা করছি, তাঁর লাশটি পুলিশ খুঁজে পেলেই এই কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে।’
যুক্তরাষ্ট্রে ১৭ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ হন লিমন ও বৃষ্টি নামের দুই শিক্ষার্থী। দুজনই ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার পিএইচডি শিক্ষার্থী। ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন লিমন। অন্যদিকে নাহিদা পিএইচডি করছিলেন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে। নিখোঁজ হওয়ার আগের দিন বৃহস্পতিবার দুজনকে সর্বশেষ ক্যাম্পাসে দেখা গিয়েছিল। গত শুক্রবার নিখোঁজ শিক্ষার্থী জামিলের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ।



