সম্পর্ক নয়, স্বাধীনতাই অগ্রাধিকার- কেন এই পথে হাঁটছেন নারীরা?

‘চিন্তা করো না, তোমার মতো নারীদের আজীবন একা থাকতে হবে না’- বন্ধুর পাঠানো এমন একটি বার্তা দেখে বিস্মিত হয়েছিলেন এক তরুণী। কারণ, গত ১৫ বছর ধরে তিনি নিজের ইচ্ছাতেই একক জীবনযাপন করছেন এবং সেই জীবনেই খুঁজে পেয়েছেন স্বস্তি ও পরিপূর্ণতা। অথচ আশপাশের অনেকের চোখে একা থাকা নারীরা এখনও যেন ‘অসহায়’ বা ‘অপূর্ণ’।
তবে বৈশ্বিক চিত্র বলছে, এই ধারণা দ্রুত বদলাচ্ছে। ব্যাংক ও আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান মরগান স্ট্যানলির এক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ২৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী প্রায় ৪৫ শতাংশ নারী একক জীবনযাপন করবেন।

সম্পর্ক বা বিয়েকে জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে না দেখে অনেক নারী এখন স্বাধীনতা, আত্মনির্ভরতা ও নিজের সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। এরই একটি উদাহরণ যুক্তরাজ্যের ২৬ বছর বয়সী মেগান ম্যকি। ছোটবেলা থেকেই মা হওয়ার স্বপ্ন ছিল তার। তবে সেই স্বপ্ন পূরণে কোনো সঙ্গীর জন্য অপেক্ষা করেননি। স্পার্ম ডোনার ও ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) পদ্ধতির মাধ্যমে মাত্র ২৪ বছর বয়সেই সন্তান ধারণ করেন তিনি।
যুক্তরাজ্যে গত কয়েক বছরে স্বেচ্ছায় একক মা হওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এ বিষয়ে মেগান বলেন, পরিবার নানা রকম হতে পারে। কিন্তু সমাজ এখনও একক মাতৃত্বকে পুরোপুরি স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে পারেনি।

মনোবিজ্ঞানী ড. বেলা ডিবাউলোর মতে, যারা স্বেচ্ছায় একা থাকার সিদ্ধান্ত নেন, তারা প্রায়ই ‘মনস্তাত্ত্বিকভাবে সমৃদ্ধ জীবন’ উপভোগ করেন। তারা নিজেদের মূল্যবোধ ও পছন্দ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করেন এবং একাকীত্বকে দুর্বলতা নয়, বরং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অংশ হিসেবে দেখেন।
তবে একক জীবনযাপনের বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো অর্থনৈতিক চাপ। বাসাভাড়া, গৃহস্থালি ব্যয় ও অন্যান্য খরচ একাই বহন করতে হয়। এই সমস্যা মোকাবিলায় অনেক নারী নতুন ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছেন।
যুক্তরাজ্যের ৩৫ বছর বয়সী লুসি পার্টিংটন নিজের এক বন্ধুর সঙ্গে যৌথভাবে বাড়ি কিনেছেন। একই দেশে শুধু নারীদের জন্য ১০২টি ফ্ল্যাট নিয়ে উইমেনস পাইওনিয়ার হাউজিং অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে একটি বিশেষ আবাসন প্রকল্প নির্মাণ করা হচ্ছে, যা ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে সম্পন্ন হওয়ার কথা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে একক মায়েরা একসঙ্গে বসবাস ও পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য গড়ে তুলছেন ‘মমিউন’ (Mommune) নামে বিশেষ কমিউনিটি।
যদিও বিশ্বের বিভিন্ন সমাজে একক নারীদের নিয়ে প্রচলিত নানা সামাজিক কুসংস্কার এখনও রয়ে গেছে। হংকংয়ের ২৭ বছর বয়সী লিয়ান ইয়াও জানান, সেখানে নির্দিষ্ট বয়স পার হওয়ার পর অবিবাহিত নারীদের ‘উচ্ছিষ্ট নারী’ বলে আখ্যায়িত করা হয়। তবে এমন মানসিকতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিচ্ছেন সিণ্ডি গ্যালোপের মতো অনেক নারী। তাদের মতে, একজন নারীর জীবনসার্থকতা শুধুমাত্র বিয়ে বা সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে না; নিজের পছন্দমতো জীবন বেছে নেওয়ার স্বাধীনতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।



