এনসিপি নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন বাতিল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনয়ন প্রক্রিয়া বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। নির্ধারিত সময়ের পরে মনোনয়ন জমা দেওয়ার কারণে দলটির নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপ্রত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একইসঙ্গে, দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়ন নিয়েও তৈরি হয়েছে তীব্র আইনি জটিলতা।
বুধবার (২২ এপ্রিল) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) যুগ্ম সচিব ও সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দীন খান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।মঈন উদ্দীন খান বলেন, ‘গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল। নির্ধারিত সময় শেষে মনোনয়নপত্র গ্রহণের কোনও সুযোগ নেই। আইন অনুযায়ী এটা আমরা পারি না।’
এদিকে, মনোনয়নপত্র দাখিলকারীদের জন্য প্রণীত তালিকাতেও নেই এনসিপির এই নেত্রীর নাম। সেখানে ৫৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বলে উল্লেখ রয়েছে।
জানা যায়, গতকাল বিকাল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় থাকলেও নির্ধারিত সময় পার হওয়ার ১৯ মিনিট পর মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন নুসরাত তাবাসসুম। তিনি নির্বাচন ভবনের প্রাপ্তি ও জারি শাখায় জমা দেন তার মনোনয়ন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার দফতর জানিয়েছে, ৫৩ জনের মধ্যে জামায়াত জোটের ১৩ জনের মধ্যে বাছাইয়ে ১২ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। আর মনিরা শারমিনের মনোনপত্র বাছাই কার্যক্রম আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুর ১২টা পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। সরকারি চাকরির পূর্ণাঙ্গ তথ্য না দেওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত দিয়েছে রিটার্নিং কর্মকর্তা। এক্ষেত্রে তাকে যথাযথ কাগজপত্র দাখিল করতে বলা হয়েছে।
মনিরা শারমিন ২০২৩ সালের ১ নভেম্বর কৃষি ব্যাংকে যোগদান করলেও ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে পদত্যাগ করেন।
ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, আইন অনুযায়ী, সরকারী চাকরি থেকে অবসর বা পদত্যাগের পর তিন বছর অতিবাহিত না হলে সংসদ সদস্য হিসেবে অযোগ্য হবেন সংশ্লিষ্ট প্রার্থী। সেক্ষেত্রে মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র গ্রহণ না হওয়ায় জামায়াত জোটের একটি আসন সংসদে কমে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কারণ, হিসেবে ইসি কর্মকর্তারা জানান, সাধারণ নির্বাচনে প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে ৫০টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে জামায়াতের জন্য ১৩টি আসন বরাদ্দ করে ইসি। এক্ষেত্রে আইন বলছেন, কোনও দল বা জোটের জন্য বণ্টন করা আসন সংখ্যার চেয়ে মনোনয়নপত্র কম হলে সংশ্লিষ্ট আসনটি সংসদের প্রতিনিধিত্বকারীদের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায়। ফলে নতুন তফসিলের ওই নির্বাচনে সংসদ সদস্য বেশি থাকায় আসনটি ভোটের মাধ্যমে বিএনপি ঘরে উঠতে পারে।
অন্যদিকে, বিএনপি জোট ভাগে পাওয়া ৩৬টি আসনের জন্য ৩৬ জনের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মোর্চাও দিয়েছে একজনের মনোনয়নপত্র। আর দল বা জোটের কেউ নন এমন তিন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। তবে, এদের মধ্যে মাহবুবা রহমান নামের এক প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
ইসির তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগামী ২৬ এপ্রিল নির্বাচন কমিশনে আপিল করা যাবে। আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল, প্রতীক বরাদ্দ ৩০ এপ্রিল। আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।



