বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ৮ জুন, ২০২৬
নারী

নিজের বাল্যবিবাহ ঠেকাতে থানায় এসএসসি পরীক্ষার্থী

175917638a4c0cd7d5a5e03c71db2b91-62ffdc1fc656a

বাল্যবিবাহের হাত থেকে রক্ষা পেতে থানায় আশ্রয় নেয় তহমিনা আক্তার নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থী। ঘটনাটি ঘটে জিয়ানগর উপজেলার ইন্দুরকানী সদর ইউনিয়নের চাড়াখালী গ্রামে।

তাহমিনা আক্তার উপজেলার সরকারি সেতারা স্মৃতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ও আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার্থী। সে উপজেলার চাড়াখালী গ্রামের আলম হাওলাদারের মেয়ে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার আলম হাওলাদার তার মেয়ে তাহমিনাকে একজন প্রবাসী যুবকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার জন্য বাড়িতে ব্যাপক আয়োজন করেন। কিন্তু তাহমিনা এই বাল্যবিয়েতে প্রবল আপত্তি জানায়। তার অমত সত্ত্বেও পরিবার বিয়ের প্রস্তুতি চালিয়ে গেলে সে কৌশলে বাড়ি থেকে বের হয়ে সরাসরি ইন্দুরকানী থানায় গিয়ে হাজির হয়। পরবর্তীতে পুলিশ তাহমিনার বাবাকে ডেকে মুচলেকা নিয়ে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

তবে বাড়ি ফেরার পর শুক্রবার রাতেই তাহমিনাকে আবারও বিয়ের জন্য পরিবার থেকে প্রচণ্ড মানসিক চাপ দেওয়া হয়। নিরুপায় হয়ে শনিবার সকালে তাহমিনা দ্বিতীয়বারের মতো থানায় গিয়ে পুলিশের আশ্রয় প্রার্থনা করে।

থানায় বসে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তাহমিনা সাংবাদিকদের বলে, “আমাকে যদি আবারও বাড়িতে পাঠানো হয়, তবে আমার বাবা আমাকে জোর করে বিয়ে দিয়ে দেবেন। আমার সামনে এসএসসি পরীক্ষা। আমি শিক্ষিত হতে চাই, নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। আমি প্রশাসন ও আপনাদের সহযোগিতা চাই।”

পুলিশ ওই ছাত্রীর অভিভাবকের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নিয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তাকে পরিবারের জিম্মায় দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই স্কুলছাত্রীর বাবা পেশায় একজন কৃষক এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল। মেয়ের বিয়ের জন্য ‘ভালো’ প্রস্তাব পাওয়ায় তিনি তার বিয়ে দিতে আগ্রহী হন। অভিযোগের বিষয়ে স্কুলছাত্রীর বাবা বলেন, মেয়ের বয়স ১৮ বছর পার হয়েছে। এ জন্য তিনি তাঁর বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে মেয়ের পড়াশোনার ইচ্ছার বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেন।

ইন্দুরকানী থানার এস আই সাইদুর রহমান জানান, আমরা তার অভিভাবককে ডেকে মুচলেকা নিয়ে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি।

এসএসসি পরীক্ষার্থীবাল্যবিবাহমুচলেকা